সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে আবারও ব্যর্থ হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি। এ জন্য তাদের আবারও ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাতেমা নজিব ও সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার (২৬ এপ্রিল) এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরশেদ ও মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এদিন রিটকারী আইনজীবীরা তদন্ত কর্মকর্তাকে তলবের আবেদন জানান। এ বিষয়ে হাইকোর্ট জানান, সাগর-রুনি হত্যা মামলার অগ্রগতি হওয়া প্রতিবেদন হাইকোর্টের কাছে পাঠিয়েছে টাস্কফোর্স কমিটি। পরে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে আরও ছয় মাস সময় চান অ্যাটর্নি জেনারেল। তবে ছয় মাস না দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষকে তিন মাস সময় দিতে বলেন রিটকারি আইনজীবীরা। পরে আদালত এ মামলার তদন্ত শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় দেন।
আলোচিত এ মামলায় ১৩ বছরেও চার্জশিট দিতে না পারার বিষয়টি ‘বেদনাদায়ক’ বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটিকে ছয় মাস সময় দেন হাইকোর্ট। ২০২৪ সালের অক্টোবরে হাইকোর্টের নির্দেশে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে পিবিআইয়ের প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদমর্যাদার নিচে নয় পুলিশের একজন প্রতিনিধি, সিআইডির একজন প্রতিনিধি ও র্যাবের একজন প্রতিনিধিকে রাখা হয়েছে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এর আগে সাংবাদিক সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে দিতে সম্পূরক আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এ আবেদন করা হয়। ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মামলায় মোহাম্মদ শিশির মনিরকে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় খুন হন। হত্যাকাণ্ডের সময় তাদের সাড়ে চার বছর বয়সী ছেলে মাহির সরোয়ার মেঘ বাসায় উপস্থিত ছিল। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম শেরে বাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর শেরেবাংলা নগর থানাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিন দিন পর মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাদের ব্যর্থতার পর ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটি হস্তান্তর করা হয় র্যাবের কাছে। মামলায় গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে দুজন জামিন পেয়েছেন। বাকিরা কারাগারে।