২ গাড়িচালককে হত্যা
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সবুজকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুই মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত। মোহাম্মদপুর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন: সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন নামের দুই ব্যক্তি। হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা মোসা. রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ২৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. আকরামুজ্জামান। এ মামলায় শেখ হাসিনা-কাদেরসহ ২০ জন পলাতক রয়েছে।
অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুরে ময়ূর ভিলার সামনে গুলিবিদ্ধ হন ২২ বছর বয়সী সবুজ। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৪৫০-৫০০ জনকে আসামি করে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন সবুজের ভাই মনির হোসেন। গত বছরের ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. মাজহারুল ইসলাম। শেখ হাসিনা-কাদেরসহ ২১ জনই পলাতক রয়েছে।