হাম রোগীর চাপ সামাল দিতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালকে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শয্যা সংকট দেখিয়ে কোনো হাসপাতাল থেকে হাম বা হাম-উপসর্গের রোগীকে অন্যত্র ফেরত পাঠানো যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এই আদেশ জারি করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় সব সরকারি হাসপাতালকে দ্রুত এ নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, হাসপাতালে আসা হাম বা হাম-উপসর্গের রোগীদের ক্ষেত্রে শয্যা খালি না থাকলেও ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করতে হবে। তবে জটিল অবস্থা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে রেফার করা যাবে।
রেফার করার ক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্ধারিত রেফারাল চেইন অনুসরণ করতে হবে। এ নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের প্রধানকে দায় বহন করতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম-উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৯০ শিশু। এ সময় ২৭ হাজার ১৬৪ শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা যায়, যাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৯৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯৩৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ১৪ হাজার ৮৯২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫ এপ্রিল থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকাসহ চার সিটি করপোরেশন এলাকায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে হাম টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।