সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মৃত্যুর পর বিভাগের শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীর আচরণ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মিমোর মৃত্যুর খবর জানার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ক্যাম্পাসে যাওয়া এবং একটি কক্ষ থেকে কাগজপত্র নিয়ে বের হয়ে আসার দৃশ্য কলাভবনের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে নাগরিক প্রতিদিনের হাতে আসা ওই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মিমোর মৃত্যুর দিন (২৬ এপ্রিল) সকাল ৮টা ৩১ মিনিটে সুদীপ চক্রবর্তী মুখে মাস্ক পরে দ্রুত কলাভবনে প্রবেশ করে নিজের কক্ষের (রুম ৩০৪০) দিকে যান। পরের মুহূর্তেই, ৮টা ৩২ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে তাকে কিছু কাগজপত্র হাতে নিয়ে ভবনের পেছনের সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত বের হয়ে যেতে দেখা যায়।
জানা যায়, সাধারণত শিক্ষকরা এই সিঁড়ি ব্যবহার করেন ন।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ এপ্রিল সকাল ৬টা ৫৮ মিনিটে মিমোর মৃত্যুর বিষয়টি জানাতে সুদীপ চক্রবর্তীকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে পরিবারের সঙ্গে প্রায় দুই মিনিট কথা বলেন তিনি, সে সময় তাকে জানানো হয় মিমো আত্মহত্যা করেছেন। এরই মধ্যে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে বিভাগের অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিষয়টি জেনে মিমোর বাসায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া এই গতিবিধি ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। মৃত্যুর খবর জানার পরপরই কেন তিনি কলাভবনে যান, কী কারণে তার কক্ষ থেকে কাগজপত্র নিয়ে দ্রুত বের হয়ে আসেন এবং কেন প্রচলিত পথ এড়িয়ে পেছনের সিঁড়ি ব্যবহার করেন, এসব বিষয় এখন তদন্তের দাবি রাখছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ওই কক্ষে মিমোর মৃত্যুর আগের রাতেও ৯টা পর্যন্ত সুদীপের ব্যক্তিগত দল ‘থিয়েট্রেক্স’ এর কার্যক্রম চলে। সেখানে সুদীপ, মিমো, হানিসহ থিয়েট্রেক্স-এর অন্যান্য সদস্যরাও ছিলেন। মিমোর মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে সুদীপ চক্রবর্তীর তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়।
এদিকে সুদীপ চক্রবর্তী বর্তমানে কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।