প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাংলাদেশের উন্নয়নে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। একই সঙ্গে চীনা ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের আশা করা হচ্ছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ের দাইওইউতাই হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবির এসব তথ্য জানান।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। এর মধ্যেও চীন ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগের পাশাপাশি রেয়াতি ঋণ ও অনুদান নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শি জিনপিং বাংলাদেশের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রায় চীন একটি বিশ্বস্ত বন্ধু হয়ে থাকবে এবং তার নেতৃত্বে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার হিসেবে অব্যাহত থাকবে।’
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট শি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে চীন সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’
সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবির জানান, ব্রিকসে যোগদান ও সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের অংশীদার হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) নিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রতিও বেইজিং সমর্থন জানিয়েছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এর আগে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের আগে দেশটির ন্যাশনাল কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ওই বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ঝাও লেজি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে চীনের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও নদী ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।’
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ‘ঝাও লেজি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চীনের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করলে তারা বৈশ্বিক দক্ষিণের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্বকারী একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে পরিণত হতে পারে।’
সফরের সার্বিক মূল্যায়নে হুমায়ুন কবির একে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘রূপান্তরমূলক’ বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, এই সফর বাংলাদেশের উন্নয়ন-দৃষ্টিভঙ্গি, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাবনাকে বিশ্বনেতাদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে এবং ভবিষ্যতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।