কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ আগামী শনিবার (২২ আগস্ট) সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে পাঠানো হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিহত নয়জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগছে।
কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন জানিয়েছে, সরকারি খরচে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পাঠানো হবে। যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের দেশে ফেরার জন্য বিশেষ ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি লাগবে না।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হোটেলের তৃতীয় তলার রিসেপশনে থাকা এসির তার বা পোর্টে ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। পরে আগুন বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত পুরো ভবনে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে যায়। এতে শ্বাসরোধ হয়ে নয়জনের মৃত্যু হয়।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ছিলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শিরমিন, দুই বছরের ছেলে সর্নাশীষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম আলী। এ ছাড়া বাবু আহমেদ, রেবতী সরকার ও এস এম আলিমুজ্জামান নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় ‘শিখা ইন’-এর লিজগ্রহীতা আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে ব্যাংকশাল আদালতে হাজির করা হলে আদালত ১২ দিনের বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) হেফাজত মঞ্জুর করেন। আরও দুই হোটেলকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার হোটেল-লজে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে অভিযান শুরু হয়েছে। কলকাতা পুলিশ হোটেল মালিকদের ফায়ার লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও পুলিশ লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় নথি রাখার পাশাপাশি নিয়মিত ফায়ার অডিট, ফায়ার অ্যালার্ম, প্যানিক অ্যালার্ম ও জরুরি বহির্গমনপথ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে নিউমার্কেট এলাকার ১৫জি মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ আগুনে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।