ডিজিটাল যুগে সংবাদপত্র, অনলাইন পোর্টাল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সব জায়গাতেই এখন ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি খবর যতই শক্তিশালী হোক, সেটিকে যদি আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা না যায়, তাহলে পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। আর এই জায়গাতেই নতুন এক পরিবর্তনের নাম হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ইনফোগ্রাফ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখানো হয়েছে, মাত্র তিন ধাপে কীভাবে চ্যাটজিপিটির সাহায্যে প্রফেশনাল ইনফোগ্রাফ তৈরি করা যায়। অনেক সাংবাদিক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ডিজিটাল মার্কেটার এই পদ্ধতিকে বলছেন গেম চেঞ্জার।
ইনফোগ্রাফটিতে দেখানো হয়েছে, প্রথম ধাপে ব্যবহারকারীকে নিজের নিউজ বা তথ্য চ্যাটজিপিটিতে দিতে হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে চ্যাটজিপিটিকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে, কী ধরনের ইনফোগ্রাফ চান, কোন তথ্য বড় করে দেখাতে হবে, কোন অংশ হাইলাইট করতে হবে। আর তৃতীয় ধাপে সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে তৈরি হবে সম্পূর্ণ ইনফোগ্রাফের কাঠামো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে একটি মানসম্মত ইনফোগ্রাফ তৈরি করতে আলাদা গ্রাফিক ডিজাইনার, কপিরাইটার এবং ডাটা টিমের প্রয়োজন হতো। এখন একটি ভালো প্রম্পট দিয়েই অনেক কাজ দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট নিউজরুম, স্বাধীন সাংবাদিক এবং ফেসবুকভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য এটি বড় সুবিধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকার কয়েকজন তরুণ সংবাদকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, অর্থনৈতিক রিপোর্ট, খেলাধুলার পরিসংখ্যান এমনকি অপরাধভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও এআই-ভিত্তিক ইনফোগ্রাফ ব্যবহার করছেন। এতে সময় কম লাগছে, পাঠকের আগ্রহও বাড়ছে।
তবে প্রযুক্তিবিদরা সতর্কও করছেন। তাদের মতে, এআই দিয়ে তৈরি ডিজাইন যত আকর্ষণীয়ই হোক, তথ্যের সত্যতা যাচাই ছাড়া প্রকাশ করা বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ চ্যাটজিপিটি কখনো কখনো ভুল তথ্যও সাজিয়ে দিতে পারে, যদি ইনপুট ভুল হয়। তাই সংবাদমাধ্যমে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবিক যাচাই এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
বিশ্বের বড় বড় সংবাদমাধ্যমও এখন এআই-চালিত ভিজ্যুয়াল টুল ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া হাউস ইতোমধ্যে ব্রেকিং নিউজের জন্য স্বয়ংক্রিয় গ্রাফিক সিস্টেম চালু করেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও দ্রুত বাড়ছে এআই-ভিত্তিক ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, আগে কনটেন্ট ছিল রাজা, এখন ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট সুপার কিং। আর সেই নতুন রাজত্বে এআই হয়ে উঠছে সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল কনটেন্ট জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী সহকারী।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, কম টেক্সট, বড় ফন্ট, বেশি এনগেজমেন্ট। অর্থাৎ, দীর্ঘ লেখা নয়; সংক্ষিপ্ত কিন্তু দৃশ্যমান তথ্যই এখন বেশি পাঠক টানে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুতগতির এই সময়ে পাঠক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেন তিনি কোনো পোস্টে থামবেন কি না। তাই ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন এখন কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি পাঠক ধরে রাখার কৌশলও।
ডিজিটাল সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ যে দ্রুত বদলাচ্ছে, এই ইনফোগ্রাফ যেন তারই একটি ছোট উদাহরণ।