টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালের সামনে দাঁড়িয়ে ভারত। ৮ মার্চ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। বড় ম্যাচের আগে ছোট ছোট বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে ভারতীয় শিবিরে। এর মধ্যে আলোচনায় এসেছে দলের হোটেল বদলের বিষয়টি।
আহমেদাবাদে গেলে সাধারণত ভারতীয় দল অবস্থান করত আইটিসি নর্মদা হোটেলে। তবে এবার তারা উঠেছে তাজ স্কাইলাইন হোটেলে। সিদ্ধান্তটি আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক হলেও অনেক সমর্থক মনে করছেন, এর পেছনে কুসংস্কারের বিষয়ও থাকতে পারে। অনেকের ধারণা, ‘কুফা’ কাটাতেই এমন পরিবর্তন।
আহমেদাবাদ ভারতের জন্য মিশ্র স্মৃতির শহর। পরিসংখ্যান বলছে, এই স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টিতে ভারত বেশ সফল। এখানে খেলা ১০ ম্যাচের মধ্যে ৭টিতেই জিতেছে তারা, হেরেছে মাত্র তিনটি ম্যাচে। তবে পরিসংখ্যানের বাইরেও রয়েছে অন্য গল্প। অনেক ভারতীয় সমর্থকের মনে এখনও তাজা ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বরের স্মৃতি। সেদিন একই মাঠে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যায় ভারত। সেই হার এখনো অনেকের মনে দাগ কেটে আছে।
এবার আবার যখন একই শহরে বিশ্বকাপের ফাইনাল, তখন হোটেল বদলের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকের ধারণা, হয়তো সেই স্মৃতি এড়াতেই দলটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এর একটি সহজ ব্যাখ্যাও রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আগেই ফাইনালে ওঠা প্রথম দলের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক হোটেল নির্ধারণ করে রেখেছিল, যা ছিল আইটিসি নর্মদা। ফাইনালে প্রথম নিশ্চিত হওয়া দল ছিল নিউজিল্যান্ড। তাই ওই হোটেল তাদের জন্য বরাদ্দ হয়। ফলে ভারতকে অন্য হোটেল বেছে নিতে হয় এবং তারা উঠেছে তাজ স্কাইলাইনে।
তবু এই পরিবর্তন পুরোনো স্মৃতি আবার সামনে এনে দিয়েছে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ভারতীয় দল ছিল আইটিসি নর্মদাতেই। এরপর একই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হেরে যায় তারা।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও এই মাঠে একটি ম্যাচ হেরেছে ভারত। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারতে হয়েছিল তাদের। তাই অনেক সমর্থকের বিশ্বাস, নতুন হোটেল হয়তো নতুন ভাগ্যও বয়ে আনতে পারে। যদি সত্যিই নতুন হোটেল নতুন সৌভাগ্য নিয়ে আসে, তাহলে ভারতীয় দলের কেউই তাতে আপত্তি করবে না।
এই টুর্নামেন্টে ভারতের কুসংস্কারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে তারা অনুশীলনের সময় পরিবর্তন করেছিল। সাধারণত ভারতীয় দল অনুশীলন করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। কিন্তু সেদিন অনুশীলন শুরু হয় সন্ধ্যা ৭টায়। কারণ ছিল চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণ শেষ হওয়ার আগে অনুশীলন করতে চায়নি ভারতীয় দল। গ্রহণ শেষ হওয়ার পরই তারা অনুশীলন শুরু করে। এটি সতর্কতা, সাংস্কৃতিক বিশ্বাস বা কেবল রুটিন পরিবর্তন—যাই হোক না কেন, বিষয়টি দ্রুত সমর্থকদের নজরে আসে।