টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল মাত্র কয়েক ঘন্টা দূরে। রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি লড়াই। তবে ফাইনালের আগেই এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে পড়েছে কয়েকটি দল।
ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা নির্ধারিত সময়ে দেশে ফেরত যেতে পারেননি। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে আকাশপথ আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যাত্রা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল শেষ পর্যন্ত চার্টার ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে।
জানা গেছে, ইংল্যান্ড দল শনিবার সন্ধ্যায় মুম্বাই থেকে সরাসরি লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দল কলকাতা থেকে একটি আলাদা চার্টার বিমানে যাবে। প্রথমে তারা যাবে জোহানেসবার্গে, এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল অ্যান্টিগায় পৌঁছাবে। যদিও এই দুই দলের সঠিক রওনার সময় এখনও চূড়ান্ত হয়নি, ধারণা করা হচ্ছে রোববারের মধ্যে তারা রওনা দিতে পারবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে কিছু সদস্য ভারত থেকে সরাসরি আরেকটি সফরে চলে যাবেন। দলের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কেশব মহারাজ, জেসন স্মিথ ও জর্জ লিন্ডে নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সেখানে ১৫ মার্চ থেকে শুরু হবে সীমিত ওভারের একটি সিরিজ।
এই ভ্রমণ বিলম্বের পেছনে রয়েছে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের সময়সূচিও। দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ মার্চ সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিদায় নেয় ১ মার্চ ভারতকে হারানোর পর। তাদের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘ডে ৬’, অর্থাৎ শেষ ম্যাচ খেলার পর ছয় দিন ধরে তারা কলকাতায় আটকে ছিলেন। জিম্বাবুয়ে দলও শেষ ম্যাচের পর সময়ে দেশে ফেরতে পারেনি, যদিও তাদের কিছু সদস্য ৪ মার্চ ভারত ছাড়তে সক্ষম হন।
বিশ্বকাপ চলাকালীন এমন ভ্রমণ জটিলতা খুব কম দেখা যায়। তবে এবার আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আইসিসি নিজেই হস্তক্ষেপ করে দলগুলোর দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেছে।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল ৭ ফেব্রুয়ারি, যা যৌথভাবে আয়োজন করেছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। প্রায় এক মাসের লড়াই শেষে এখন বাকি শুধু ফাইনাল ম্যাচ। রবিবার সেই ম্যাচের মাধ্যমে ফাইনাল এবং পুরো আসরের পর্দা নামবে।