এএফসি নারী এশিয়ান কাপে বড় ব্যবধানে হারের পর বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৪-০ গোলের পরাজয়ের পর টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষেই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশার কথা জানিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান কোচ পিটার বাটলার।
পর্যাপ্ত লজিস্টিক সাপোর্ট ও পেশাদার পরিবেশের অভাব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন এই ইংলিশ কোচ। তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফিরে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে চান।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ৫৯ বছর বয়সী বাটলার বলেন, ‘আমি এখানে থাকছি না। আগামী সপ্তাহে ইংল্যান্ডে ফিরে যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব, নিজের কুকুরকে নিয়ে হাঁটতে বের হবো এবং এরপর আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববো। কারণ যেভাবে প্রত্যাশা ছিল, সেভাবে যদি সহায়তা বা সমর্থন না পাই, তাহলে দায়িত্ব চালিয়ে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি কোনো জাদুকর নই।’
নিজের দীর্ঘ কোচিং অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘আমি ক্যারিয়ারে অনেক কাজ করেছি এবং আমার কাজের জবাবদিহি কারও কাছে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমি কোনো ফালতু কাজ করি না। এখন সময় এসেছে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার।’
বাটলারের মতে, বড় দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও লজিস্টিক সাপোর্টের ব্যবধান স্পষ্ট। বিশেষ করে ভিডিও বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘আমাদের সেই সুবিধা নেই। অনেক সময় মনে হয়, যেন একজন বক্সার এক হাত পেছনে বেঁধে রেখে লড়াই করতে নেমেছে।’
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল হজম করা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন কোচ। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের রক্ষণভাগ বেশ দুর্বল ছিল। সত্যি বলতে, এক বা দুজন খেলোয়াড় যেন হাল ছেড়ে দিয়েছিল। বিষয়টি আমাকে চরম হতাশ করেছে।’
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের অভিজ্ঞতা আর এশিয়ান কাপের প্রতিযোগিতার পার্থক্যও তুলে ধরেন বাটলার। তার মতে, এই পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি যথেষ্ট ছিল না। তিনি বলেন, ‘সাফে আপনি সেভাবে পরীক্ষিত হন না। এই পর্যায়ে লড়াই করার মতো অবস্থায় আমরা ছিলাম না, এটাই কঠিন বাস্তবতা।’