বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে খেলার কথা, কিন্তু মাঠের বাইরেই তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কানাডায় প্রবেশ করতে না দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়েই।
ফিফার কংগ্রেসে যোগ দিতে টরন্টোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন কর্মকর্তারা। বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের আটকে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে হয় তুরস্কতে। ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেডারেশন জানায়, এটি শুধু কর্মকর্তাদের অপমান নয়, বরং ‘ইরানি জাতির সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম সম্মানজনক একটি অঙ্গের প্রতি অপমান’।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেশন সভাপতি মেহেদি তাজ-সহ তিনজনকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি ‘অভিবাসন কর্মকর্তাদের অনুপযুক্ত আচরণের’ কারণে। অন্যদিকে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ বিষয়টিকে ‘অনিচ্ছাকৃত’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, অনুমতি প্রত্যাহার করা হয়ে থাকতে পারে, তবে বিষয়টি দেখছেন অভিবাসনমন্ত্রী লিনা দিয়াব।
কানাডার অবস্থান আরও কঠোর হয় যখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশে অগ্রহণযোগ্য। ২০২৪ সাল থেকে এই সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে কানাডা।
মানবাধিকার সংগঠন রাউল ওয়ালেনবার্গ সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, বিশেষ অনুমতি না থাকলে তাজের প্রবেশই সম্ভব হতো না। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও আসে প্রতিক্রিয়া। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেন, এই সিদ্ধান্ত ‘উদ্বেগজনক’ এবং এটি ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রতে তাদের ম্যাচ খেলার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগেই জানিয়েছেন, ইরান বিশ্বকাপে খেলবে। তবুও বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, মাঠের বাইরের এই টানাপোড়েনই এখন বড় গল্প।