আইপিএলের চকচকে আসরের আড়ালে এবার নতুন করে আলোচনায় উঠেছে শৃঙ্খলা আর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি। মাঠের ভেতরের ক্রিকেট যেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, তেমনি মাঠের বাইরের পরিবেশটাও যেন আরও নিয়ন্ত্রিত রাখতে চাইছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। আর সেই জায়গা থেকেই আসছে নতুন ভাবনা, বিশেষ করে ‘গার্লফ্রেন্ড কালচার’ ঘিরে।
চলতি আসরে ম্যাচ চলাকালীন অতিরিক্ত প্লেয়াররা মাঠে বা তার আশেপাশে ঘোরাফেরা নিষিদ্ধসহ বেশ কিছু পরিবর্তন আনে বিসিসিআই। তবে এখানেই থামতে চাইছে না তারা। ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় লিগ আইপিএলকে আরও পেশাদার আর সুশৃঙ্খল করতে এবার নজর দেওয়া হচ্ছে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত চলাফেরার দিকেও।
নতুন নিয়মে আইপিএলে ম্যাচ চলাকালীন ‘গার্লফ্রেন্ড কালচার’-এর ফাঁদ থেকে ভারতীয় ক্রিকেটকে বাঁচাতে আরও কঠোর নিয়ম চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হার্দিক পান্ডিয়া, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ঈশান কিষাণ, যশস্বী জয়সওয়াল এবং অর্শদীপ সিং-এর মতো বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল ক্রিকেটারকে দলের হোটেলে তাদের বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা যাওয়ার পর থেকেই এমন সিদ্ধান্তের কথা ভাবছে বিসিসিআই। যেখানে খেলোয়াড়রা প্রায়শই বান্ধবীরা দলের বাসেও তাদের সঙ্গ দিতেন।
জাগরণের একটি প্রতিবেদনে বিসিসিআই-এর এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা নিজেদের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা করছি। পরবর্তী বিসিসিআই সভায় এটি নিয়ে আলোচনা করা হবে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাদের স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যদের হোটেলে থাকাতে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু বান্ধবীদের বিষয়ে আমাদের আরও একটু কঠোর হতে হবে।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এই নিয়মটি চালু করার ফলে বোর্ড প্রথমে ভারতীয় দলের এই সংস্কৃতিটি বন্ধ করতে পেরেছিল, কিন্তু এটি শুধুমাত্র স্ত্রী এবং নিকটাত্মীয়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং এতে প্রেমিকাদের কথা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। এখন আইপিএলের জন্যও খেলোয়াড়দের সঙ্গে টিম হোটেলে প্রেমিকাদের থাকতে না দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনাটি আইপিএলের দুর্নীতি দমন প্রোটোকলগুলোকে সুসংহত করতেও সাহায্য করবে।’
বিসিসিআই এর কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা এই নিয়মটি তৈরি করেছি এবং আইপিএলের ব্যাপারেও কিছু একটা করতে হবে। আগে আইপিএলে খেলোয়াড়দের হোটেলে প্রেমিকাদের থাকার অনুমতি ছিল না, কিন্তু এখন এটি একটি ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। আমি এই বিষয়ে আইপিএলের দুর্নীতি দমন ইউনিটের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি, এবং তিনি আমাদের জানিয়েছেন স্ত্রী এবং 'আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত প্রেমিকাদের' একসঙ্গে থাকার অনুমতি দিতে বলা হয়েছে।’
খেলোয়াড়দের প্রেমিকাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তাদের অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে ইন্টারনেটে বেশ জনপ্রিয়। এর ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে হোক বা না হোক, দল বা অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। যদিও আন্তর্জাতিক ম্যাচে দুর্নীতিবিরোধী প্রোটোকল লঙ্ঘনের সুযোগ নেই, কারণ পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে বিসিসিআই-এর নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু আইপিএল দলগুলো ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত হয় এবং এখানে দশটি ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি থাকায় বোর্ডের পক্ষে মাঠের বাইরের সমস্ত কার্যকলাপের ওপর নজর রাখা তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে পড়ে।