এবারের পিএসএলে নাহিদ রানার গল্পটা শুধু পারফরম্যান্সের নয়, বরং অপেক্ষা থেকে উঠে এসে নিজের জায়গা ছিনিয়ে নেওয়ার গল্প। গতবার বেঞ্চে বসে থাকা সেই রানাই এবার হয়ে উঠলেন পেশোয়ার জালমির শিরোপা জয়ের নায়ক।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের আলো ঝলমলে রাতে যেন নিজের নামটা আরও উজ্জ্বল করে দিলেন এই গতিতারকা। ম্যাচের শুরু থেকেই আগুন ঝরানো বোলিংয়ে হায়দরাবাদ কিংসমেনের ব্যাটিং লাইনআপকে এলোমেলো করে দেয় পেশোয়ার। মাত্র ১২৯ রানেই গুটিয়ে যাওয়া প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রানার স্পেল ছিল পরিকল্পিত আর নিখুঁত। গতি, বাউন্স আর লেংথের ভিন্নতায় ব্যাটারদের বারবার ভুল করিয়েছেন তিনি। ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট, সঙ্গে একটি মেডেন! সংখ্যাটা যতটা বলে, প্রভাবটা তার চেয়েও বেশি।
ধারাভাষ্যকক্ষে বসে তার বোলিং দেখে মুগ্ধ হয়েছেন ওয়াসিম আকরাম। তিনি বলেন, ‘গতি বলতে এটাই বোঝায়। সে তাদের সবাইকে সমস্যায় ফেলেছিল। ঘণ্টায় ১৪৫-১৫০ কিলোমিটার গতিতে তাঁর দৌড়ানোর ভঙ্গিটা দারুণ। সহজ অ্যাকশন, মোটেও জটিল নয়। তার সামনে রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।’
রানার শিকারদের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ভয়ংকর এই ব্যাটারকে বাউন্সারে চাপে ফেলে মিড অনে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করেন রানা, ফলাফল গোল্ডেন ডাক। আরেক উইকেটে হুনাইন শাহকে ১৪৮ কিলোমিটার গতির ইয়র্কারে বোল্ড করে নিজের গতির প্রমাণ দেন তিনি।
ম্যাচ শেষে আবেগ ছড়িয়ে পড়ে পেশোয়ার শিবিরে। মালিক জাভেদ আফ্রিদি যেন আনন্দে ভাষাই হারিয়ে ফেলেন। রানাকে জড়িয়ে ধরেন, ট্রফি হাতে বাবর আজম, ফারহান ইউসুফদের সঙ্গে উদযাপনে মেতে ওঠেন সবাই। সেই মুহূর্তের একটি ছবি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে রানা লিখেছেন, ‘সবকিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ।’
রানার এই উত্থানটা আরও বিশেষ, কারণ গত মৌসুমে দলে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। কিন্তু এবার সুযোগ পেয়েই দেখিয়ে দিলেন, কেন তাকে নিয়ে এত আলোচনা। নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য মাঝপথে দেশে ফিরে আবার অনুমতি নিয়ে পিএসএলে ফিরে আসা, সবকিছু মিলিয়ে তার পথটা সহজ ছিল না।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর রানা নিজেই বলেন, ‘আমি সত্যিই এটা উপভোগ করি। গত বছর আমি এসেছিলাম, কিন্তু খেলিনি। এই বছর এসে সত্যিই উপভোগ করেছি। শুধু নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছি এবং আমার দলকে সাহায্য করতে সেরাটা দিয়েছি। আমি তাই খুশি।’