ইউরোপজুড়ে যখন বায়ার্ন মিউনিখের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা, তখন অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনাতেই নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার আরেকটি প্রমাণ দিল প্যারিস সেন্ট-জার্মেই। ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেছে ফরাসি জায়ান্টরা।
বুধবার রাতের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় পিএসজিকে। ম্যাচের মাত্র আড়াই মিনিটেই স্বাগতিক সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেন উসমান ডেম্বেলে। খিচা খাভারেস্খেলিয়ার দারুণ এক আক্রমণ থেকে পাওয়া নিখুঁত পাস সহজেই জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
প্রথম ধাক্কা সামলে দ্রুত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় বায়ার্ন। মাইকেল ওলিসে ও লুইস দিয়াজের একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়তে থাকে পিএসজির রক্ষণে। তবে পুরো ম্যাচজুড়ে অসাধারণ শৃঙ্খলা ধরে রাখে সফরকারীরা। বিশেষ করে নুনো মেন্ডেস কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিশ্চিত বিপদ ঠেকিয়ে দেন।
তবে শুধু ফুটবল নয়, ম্যাচে আলোচনার বড় অংশ জুড়ে ছিল রেফারিং বিতর্কও। সম্ভাব্য ফাউল ও হ্যান্ডবলের কয়েকটি ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় বায়ার্ন খেলোয়াড়দের। গ্যালারি থেকেও আসে অসন্তোষের প্রতিক্রিয়া।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নাটকীয়তা বাড়ান হ্যারি কেইন। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষদিকে গোল করে সমতায় ফেরান বায়ার্নকে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। সেই গোল কেবল রাতের লড়াইয়ে সমতা ফিরিয়েছে, দুই লেগের হিসাব বদলাতে পারেনি। ফলে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্ব জয়ের স্বপ্ন আবারও অপূর্ণই থেকে গেল কেইনের।
এবার শিরোপার লড়াইয়ে পিএসজির সামনে আর্সেনাল। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় হবে ফাইনাল। একদিকে টানা সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার মিশনে পিএসজি, অন্যদিকে দীর্ঘ ইউরোপীয় খরা কাটানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে আর্সেনাল।