লিভারপুলের মৌসুম যেন শেষের আগেই ভেঙে পড়ছে। একের পর এক হতাশা, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার অনিশ্চয়তা। আর সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিল উনাই এমেরির অ্যাস্টন ভিলা। ভিলা পার্কে দুর্দান্ত এক জয়ে লিভারপুলকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শুধু গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্টই নেয়নি, নিশ্চিত করেছে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টিকিটও।
অন্যদিকে, এই জয় অ্যাস্টন ভিলার আত্মবিশ্বাসকে আরও উঁচুতে তুলে দিয়েছে ইউরোপা লিগ ফাইনালের আগে। ৩০ বছরে প্রথম কোনো মেজর ট্রফি জয়ের স্বপ্নে বিভোর উনাই এমেরির দল আগামী বুধবার ফ্রেইবুর্গের মুখোমুখি হবে ইউরোপা লিগের ফাইনালে। তার আগে লিভারপুলকে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ পাঁচে থাকা নিশ্চিত করাটা যেন বাড়তি শক্তি দিল তাদের।
ম্যাচে বল দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণে ছিল ভিলার ধার। প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে মরগান রজার্স গোল করে এগিয়ে দেন স্বাগতিকদের। বিরতির পর ৫২ মিনিটে ভার্জিল ফন ডাইকের গোলে সমতায় ফেরে লিভারপুল। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি। মাত্র পাঁচ মিনিট পর ওলি ওয়াটকিন্স আবারও এগিয়ে দেন অ্যাস্টন ভিলাকে।
বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার আলোচনার মধ্যেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন ওয়াটকিন্স। ৭৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচ অনেকটাই হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন তিনি। লিভারপুল তখনও ফেরার চেষ্টা করছিল, কিন্তু ৮৯ মিনিটে জন ম্যাকগিন গোল করলে ম্যাচ পুরোপুরি ভিলার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
ইনজুরি সময়ে ফন ডাইক নিজের দ্বিতীয় গোল করলেও তাতে শুধু ব্যবধানই কমেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে আর্নে স্লটের দলকে। দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই মৌসুমে এই প্রথম চার গোল হজম করল লিভারপুল। সবমিলিয়ে এবারের প্রিমিয়ার লিগে তাদের গোল হজমের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১।
৩৭ ম্যাচ শেষে ৬২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চারে রয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। শেষ ম্যাচে হারলেও শীর্ষ পাঁচের বাইরে যাওয়ার শঙ্কা নেই তাদের। অন্যদিকে লিভারপুল ৩ পয়েন্ট পিছিয়ে পাঁচ নম্বরে। শেষ ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে নামার আগে তাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের জায়গা ধরে রাখার চাপ আরও বেড়ে গেল অলরেডদের ওপর।