ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার জয়ের পর মজার এক মুহূর্ত দ্রুতই ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কয়েকজন সতীর্থকে নিয়ে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের পানির বোতল পরীক্ষা করতে দেখা যায় লিওনেল মেসিকে।
পিকফোর্ডের পানির বোতলে ছিল সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটআউটের জন্য প্রস্তুত করা কিছু নোট। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা পেনাল্টি নিলে সাধারণত কোন দিকে শট নেন এবং তাদের বিপক্ষে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে—এসব তথ্যই ছিল সেই নোটে।
তবে ইংল্যান্ডের দুর্ভাগ্য, সেই পেনাল্টি শুটআউটের প্রয়োজনই পড়েনি। ম্যাচের শেষ দিকে দুই গোল করে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়ে ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা। ফলে পিকফোর্ডের দীর্ঘ প্রস্তুতি থেকে যায় আড়ালেই।
পিকফোর্ডের পানির বোতলে কী লেখা ছিল?
বড় নকআউট ম্যাচের আগে গোলরক্ষকদের পেনাল্টি রেফারেন্স গাইড তৈরি করা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। পিকফোর্ডও আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পেনাল্টি টেকারদের নিয়ে এমন একটি গাইড প্রস্তুত করেছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নোটে আর্জেন্টিনার প্রতিটি পেনাল্টি টেকারের জন্য আলাদা নির্দেশনা ছিল। কে সাধারণত কোন দিকে শট নেন এবং পিকফোর্ডের কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত—এসব তথ্য সেখানে উল্লেখ ছিল। ম্যাচের পর ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পেনাল্টি নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে তথ্যও দেখা যায়।
শুটআউটের সময় দ্রুত দেখে নেওয়ার উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছিল বোতলটি। ফলে শুধু স্মৃতির ওপর নির্ভর না করে পেনাল্টির আগে নিচে তাকিয়ে তথ্য দেখে নিতে পারতেন পিকফোর্ড।
পেনাল্টির নোট দেখে মেসিরা হাসলেন কেন?
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সেমিফাইনাল জয়ের উচ্ছ্বাসে থাকা আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের চোখে পড়ে পিকফোর্ডের পানির বোতলটি। মেসি, এনজো ফার্নান্দেজ ও নিকোলাস গঞ্জালেসসহ কয়েকজন খেলোয়াড় বোতলের তথ্যগুলো দেখতে থাকেন। সেখানে কী লেখা ছিল তা দেখে তাদের বেশ মজা পেতে দেখা যায়।
মুহূর্তটি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনার পেনাল্টি টেকারদের নিয়ে আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়েছিল। অথচ ম্যাচ পেনাল্টি শুটআউট পর্যন্ত গড়ানোর আগেই আর্জেন্টিনা জয় নিশ্চিত করে ফেলে।
পেনাল্টি টেকারদের নিয়ে এমন গবেষণা কি স্বাভাবিক?
বড় ম্যাচের আগে গোলরক্ষকরা নিয়মিতই প্রতিপক্ষের পেনাল্টি নেওয়ার ধরন নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেন।
এ ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা হয়—আগে নেওয়া পেনাল্টির রেকর্ড, কোন দিকে শট নেওয়ার প্রবণতা, শট নেওয়ার আগে শরীরের ভঙ্গি, চাপের মুহূর্তে আচরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলোয়াড়রা নিজেদের অভ্যাস বদলান কি না।
তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। পেনাল্টি টেকাররাও জানেন, গোলরক্ষক তাদের নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাই তারা ইচ্ছা করেই নিজেদের স্বাভাবিক অভ্যাস বদলে ফেলতে পারেন। এ কারণেই পেনাল্টি শুটআউট শুধু প্রস্তুতির বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানসিক লড়াইও।
পিকফোর্ডের পরিকল্পনা কি কাজে দিত?
এর উত্তর আর কখনো জানা যাবে না। অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচ সমতায় থাকলেই কেবল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে পিকফোর্ডের প্রস্তুতি কাজে লাগত। কিন্তু শেষ দিকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ম্যাচ জিতে নেয় আর্জেন্টিনা।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক গুরুত্বপূর্ণ কিছু সেভ করলেও তার পেনাল্টি নোট শেষ পর্যন্ত আর ব্যবহার করা হয়নি।
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটআউটের জন্য প্রস্তুত ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ম্যাচে হেরে যাওয়ার পর সেই প্রস্তুতিই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের চোখে পড়ে। মেসি ও আর্জেন্টিনার জন্য এটি ছিল মাঠের আড়ালে চলা ফুটবলের কৌশলগত দাবা খেলার এক বিরল ঝলক।