কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির বিশ্বকাপের ব্যক্তিগত লড়াই আবারও ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে। তবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো গোল্ডেন বুট জিতে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন নজির গড়েছেন এমবাপ্পে, আর মেসিকে সন্তুষ্ট থাকতে হলো সিলভার বুট নিয়েই।
অন্যদিকে দলগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পুরস্কারেও আধিপত্য দেখিয়েছে চ্যাম্পিয়ন স্পেন। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি গোল্ডেন বল উঠেছে মিডফিল্ডার রদ্রির হাতে। পুরো আসরে গোল বা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঝলক কম থাকলেও স্পেনের প্রতিটি জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল তার। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স ও ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রদ্রির পারফর্মেন্স ছিল স্পেনের শিরোপা জয়ের অন্যতম ভিত্তি।
বিশ্বকাপে এবার ১০ গোল ও চার অ্যাসিস্ট করেছেন এমবাপ্পে। এর মধ্য দিয়ে টানা দুই আসরে গোল্ডেন বুট জেতার প্রথম ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি। কাতার বিশ্বকাপে করা আট গোলের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছেন। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ২২, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ২১ গোল নিয়ে বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ করেছেন মেসি।
গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তৃতীয় হয়েছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম। তার ঝুলিতে সাত গোল ও এক অ্যাসিস্ট। সমান সাত গোল করেছিলেন নরওয়ের আর্লিং হলান্ডও, তবে অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় ব্রোঞ্জ বুট গেছে বেলিংহামের হাতে।
স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় শক্তি। সাতটি ক্লিন শিট রেখে ও পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করে গোল্ডেন গ্লাভ জিতেছেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। টানা ৬৪৯ মিনিট গোল না খেয়ে বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।
সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার গেছে স্পেনের ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার পাউ কুবারসির হাতে। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত রক্ষণ সামলে স্পেনকে শিরোপা জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
একনজরে ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্যাক্তিগত পুরস্কার বিজয়ীরা:
গোল্ডেন বল (সেরা খেলোয়াড়): রদ্রি (স্পেন)
সিলভার বল: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
ব্রোঞ্জ বল: কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)
গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা): কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)
সিলভার বুট: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
ব্রোঞ্জ বুট: জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড)
গোল্ডেন গ্লাভ (সেরা গোলরক্ষক): উনাই সিমন (স্পেন)
সেরা তরুণ খেলোয়াড়: পাউ কুবারসি (স্পেন)