বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। তবে শিরোপা জয়ের পথে একবার নয়, দুইবার গোল বাতিলের হতাশাও সঙ্গী হয়েছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের।
সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই জাল খুঁজে পেয়েছিল স্পেন। ৯৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামস বল জালে জড়ালেও সঙ্গে সঙ্গে গোল বাতিল করে দেন রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ।
ঘটনার শুরু মিকেল মেরিনোকে ঘিরে। আর্জেন্টিনার বক্সে বলের দখল নেওয়ার লড়াইয়ে নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান তিনি। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ মেরিনোর শট ঠেকিয়ে দিলেও বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি। ফিরতি বলে সহজেই জালে বল পাঠান নিকো উইলিয়ামস। কিন্তু তার আগেই ওতামেন্দির ওপর মেরিনোর ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।
রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ শেষে শুরু হয় আলোচনা। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) মাঠের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেনি। রিপ্লেতে দেখা যায়, মেরিনো ওতামেন্দিকে সামান্য স্পর্শ করেছিলেন। তবে রেফারি সেটিকে ফাউল হিসেবে গণ্য করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে ঘটনাটিকে ‘সফট ফাউল’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ, চাইলে রেফারি খেলা চালিয়েও যেতে পারতেন।
তবে গোল বাতিলের হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি স্পেনের। ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের অ্যাসিস্ট থেকে ফেরান তোরেস গোল করে স্প্যানিশদের এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত সেই গোলই গড়ে দেয় বিশ্বকাপ ফাইনালের ভাগ্য।
এরও সাত মিনিট পর আবারও আর্জেন্টিনার জাল কাঁপান ফেরান তোরেস। ১১৩ মিনিটে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে একা পেয়ে বল জালে পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার অফসাইডের কারণে সেই গোলটিও বাতিল করে দেন রেফারি।
দুটি গোল বাতিল হলেও শেষ পর্যন্ত এক গোলেই কাজ হয়ে যায় স্পেনের। তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের সেই গোলেই ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নেয় লা রোজা।