২০০৫ সালের এপ্রিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগের দিন কোচিতে ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুমে সৌরভ গাঙ্গুলিকে ‘এপ্রিল ফুল’ বানানোর পরিকল্পনা করেন যুবরাজ সিং ও হরভজন সিং। কিন্তু মজার সেই প্র্যাঙ্ক একপর্যায়ে এতটাই বাস্তব মনে হয় যে, অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নিয়ে ফেলেছিলেন সৌরভ।
সম্প্রতি পিটিআইয়ের একটি পডকাস্টে সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন হরভজন। যুবরাজ ও হরভজন কিছু ভুয়া পেপার কাটিং তৈরি করেছিলেন, যেখানে দেখানো হয় সৌরভ সংবাদমাধ্যমে সতীর্থদের সমালোচনা করেছেন। যুবরাজকে ‘পার্টি অ্যানিমেল’, হরভজনকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ এবং জহির খান ও আশিষ নেহরাকে নিজেদের মতো থাকা ক্রিকেটার হিসেবে তুলে ধরা হয়।
হরভজন বলেন, ‘পুরো দল বসে ছিল যখন আমরা এই নাটকটা সাজাই। যুবরাজ শুরু করল, ‘দাদা, প্রেসকে আপনি এসব কী বলেছেন? আপনি বলেছেন যুবরাজ নাকি খুব পার্টি করে, হরভজনের কারো পরোয়া নেই, নেহরা আর জহিরও নিজেদের মতো থাকে।’ দাদা অবাক হয়ে বলল, ‘আমি আবার এসব কখন বললাম?’ তারপর আমরা পেপার কাটিংগুলো দেখাই।’
প্র্যাঙ্কটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে এতে যোগ দেন শচীন টেন্ডুলকার ও রাহুল দ্রাবিড়। দুজনই এমনভাবে সৌরভকে বোঝান, যেন তিনি সত্যিই সতীর্থদের বিরুদ্ধে এসব মন্তব্য করেছেন। এতে পুরোপুরি বিশ্বাস করে সৌরভ বলেন, ‘আমি ঈশ্বর ছুঁয়ে বলছি, আমি এমন কিছু বলিনি। যদি প্রমাণ হয় আমি এগুলো বলেছি, তবে আমি এখনই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেব।’
এরপর কয়েকজন ক্রিকেটার ব্যাগ গুছিয়ে ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অভিনয় করলে আরও ঘাবড়ে যান সৌরভ। শেষ পর্যন্ত দলের একজন হেসে ফেললে ফাঁস হয়ে যায় পুরো প্র্যাঙ্ক। স্বস্তি ফেরে সৌরভের মুখে।
মজার সেই ঘটনার পরদিনই পাকিস্তানকে ৮৭ রানে হারায় ভারত। বীরেন্দ্র শেবাগ ও রাহুল দ্রাবিড় সেঞ্চুরি করেন, আর শচীন টেন্ডুলকার নেন পাঁচ উইকেট। যদিও ছয় ম্যাচের সিরিজটি শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে জিতে নেয় পাকিস্তান।