যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে তীব্র ঝড় ও টর্নেডোর আঘাতে অন্তত ছয়জন নিহত ও অনেক মানুষ আহত হয়েছে। বিবিসি রোববার (৮ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি বলেছে, মিশিগান ও ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় সময় শুক্রবার আঘাত হানা টর্নেডোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিশিগানের দক্ষিণাঞ্চলে চারজন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। এ ছাড়া ওকলাহোমায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করে যাচ্ছেন।
শুক্রবারের ঝড়ে বহু গাছ উপড়ে যায়, বিদ্যুৎলাইন ছিঁড়ে পড়ে ও বিভিন্ন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু বাড়ির ছাদও উড়ে গেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, সপ্তাহান্তজুড়ে বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। গ্রেট প্লেইন্স অঞ্চল থেকে টেক্সাস পর্যন্ত বজ্রঝড় ও আকস্মিক বন্যার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মিশিগানের ব্রাঞ্চ কাউন্টির শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার টর্নেডো আঘাত হানার পর ইউনিয়ন সিটি এলাকার কাছে তিনজন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছে। সপ্তাহান্তে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও সড়ক বন্ধ থাকার আশঙ্কাও রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫০ মাইল দূরের ক্যাস কাউন্টিতে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আর বেগস শহরে দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ওকমালজি কাউন্টি শেরিফ দপ্তর।
শত শত মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বাড়ি, কৃষি শেডসহ একাধিক বড় স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ইউনিয়ন সিটিজুড়ে বিশাল ঘূর্ণিঝড় বয়ে যেতে এবং থ্রি রিভার্র শহরের একটি পার্কিং এলাকায় ধুলা ও ধ্বংসাবশেষ উড়তে দেখা গেছে। থ্রি রিভার্সের এক বাসিন্দা জানান, তারা জানালা দিয়ে তাকিয়ে টর্নেডো আসতে দেখেছিলেন। টর্নেডোটি যে রাস্তা ধরে এগোচ্ছিল, সেখানেই তার পরিবার থাকে।
মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার জানিয়েছেন, ব্রাঞ্চ, ক্যাস ও সেন্ট জোসেফ কাউন্টির জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য আমরা জরুরি সেবাদানকারী দলগুলোর সঙ্গে কাজ করছি। যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা।’
অন্যদিকে ওকলাহোমায় কাউন্টির জরুরি ব্যবস্থাপক জেফ মোর জানান, ওকমুলগি কাউন্টিতে টর্নেডো প্রায় চার মাইল এলাকাজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন রেখে গেছে। এই কাউন্টিটি তুলসা শহর থেকে প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। তিনি বলেন, ‘আমরা যত দ্রুত সম্ভব সব জায়গায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছি এবং যত দ্রুত সম্ভব রাস্তা পরিষ্কার করছি।’