পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরান সফর এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি বুধবার (১৫ এপ্রিল) ওয়াশিংটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন বার্তা নিয়ে ইরানে পৌঁছান। বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা এপি, রয়টার্স ও আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করা এবং নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা।
ওয়াশিংটনের পাঠানো সেই বার্তার মূল বিষয়গুলো ছিল:
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি
গত ৮ এপ্রিল যে দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তার মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। ওয়াশিংটনের বার্তায় এই মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে আরও সময় নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ
আলোচনার সবচেয়ে বড় ‘কাঁটা’ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ওয়াশিংটন বার্তা দিয়েছে, ইরান যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে রাজি হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিলের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
হরমুজ প্রণালি ও নৌ অবরোধ
ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার শর্ত ছিল। ওয়াশিংটনের বার্তায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলে প্রণালির ওপর থেকে মার্কিন কঠোর নজরদারি বা অবরোধ তুলে নেওয়া হতে পারে।
ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা বৈঠক
এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছিল। ওয়াশিংটন এখন পাকিস্তানেই দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা সেনাপ্রধান মুনির তেহরানকে অবহিত করেছেন।
ক্ষতিপূরণ ও পুনর্গঠন
যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরান যে বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণ চেয়েছিল, ওয়াশিংটন সরাসরি তা মেনে না নিলেও ‘পুনর্গঠন সহায়তা’ বা ‘মানবিক ফান্ড’ গঠনের মাধ্যমে একটি মাঝামাঝি সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের এই ভূমিকার প্রশংসা করে তাঁকে ‘ফ্যান্টাসটিক ফিল্ড মার্শাল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পাকিস্তান এখন এই দুই চরম শত্রুর মধ্যে একমাত্র ‘বিশ্বাসযোগ্য সেতুবন্ধন’ হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তারা পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের বার্তা পেয়েছেন এবং তাদের ‘রেড লাইন’ বা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস না করে তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ২২ এপ্রিলের দিকে, কারণ এই কূটনৈতিক তৎপরতা সফল না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় আকারের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।