যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তান এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘দ্বিমুখী চাল চালছে’ বলে অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, রাশিয়া ও চীনসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সচল রাখতে ইরানকে ছয়টি স্থলপথ ব্যবহার করতে দিয়েছে ইসলামাবাদ।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের জন্য এই ছয়টি স্থল ট্রানজিট রুট চালুর ঘোষণা দেয়। ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-বাণিজ্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় তা এড়াতেই ইসলামাবাদ এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডেরেক জে গ্রসম্যান সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে এই স্থলপথগুলো ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান আসলে ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ’ দেওয়ার কৌশলকে বাধাগ্রস্ত করছে। এটি ইরানকে মার্কিন নৌ-অবরোধ এড়িয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে তেলের বাণিজ্য চালিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গ্রসম্যান লিখেছেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন, আপনারা সমস্যায় পড়তে যাচ্ছেন। আপনাদের পরম বন্ধু পাকিস্তান ইরানের জন্য ছয়টি স্থল সংযোগ খুলে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে, যা হরমুজ প্রণালিতে আপনাদের পাল্টা-অবরোধ এড়াতে তেহরানকে সাহায্য করবে। এর ফলে ইরান মার্কিন চাপ প্রতিরোধ করে টিকে থাকতে পারবে। ইসলামাবাদ আবারও আমেরিকার সঙ্গে দ্বিমুখী চাল চালল!’
পাকিস্তানের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন
পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার পালে হাওয়া দিয়েছে গ্রসম্যানের এই মন্তব্য।
ইসরায়েলও দাবি করেছে, পাকিস্তান কোনো নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী নয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার পাকিস্তানের বিশ্বস্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছিলেন, দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশ ‘নির্ভরযোগ্য’ নয়।
এমনকি ইরানও এই আলোচনা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি ইসলামাবাদকে তেহরানের ‘ভালো বন্ধু’ বললেও দাবি করেছেন, তারা ‘উপযুক্ত মধ্যস্থতাকারী নয়’।
তার মতে, পাকিস্তান নিরপেক্ষ নয়। তারা আমেরিকার পক্ষে কাজ করে।
মার্কিন কৌশল
ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে ট্রাম্প চাইছেন তেহরানের ওপর তীব্র অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে, যাতে তারা মার্কিন শর্ত মেনে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরই মধ্যে তার প্রশাসনকে দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। কিন্তু ইরানকে ছয়টি স্থলপথ ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে ইসলামাবাদ ট্রাম্পের সেই কৌশলে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদন বলা হয়, ইরানের উদ্দেশে আসা তিন হাজারের বেশি কার্গো কন্টেইনার বর্তমানে পাকিস্তানের বন্দরগুলোতে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই কন্টেইনারগুলো এখন ওই ছয় স্থলপথ ব্যবহার করে ইরানে পৌঁছাবে।