ব্যক্তিগত জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। মঙ্গলবার (১২ মে) এই নিয়োগের বিষয়টি সামনে আসার পর বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র আপত্তি ওঠে। এমনকি বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে মিত্র দলগুলোও।
এমন পরিস্থিতিতে প্রবল সমালোচনার মুখে বুধবার এই নিয়োগ বাতিল করেন বিজয়।
এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই নিয়োগের পরেই সমালোচক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছাড়াও বিজয়ের মিত্র দল ভিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচির (ভিসিকে) পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
এর আগে টিভিকে নেতা সি টি নির্মল কুমার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ভেট্রিভেলকে মূলত মিডিয়া মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার পেশা এখানে বিবেচ্য নয়।
রাধান পণ্ডিতই সেই জ্যোতিষী, যিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তামিলনাড়ুর এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বিজয়।
নির্বাচনী প্রচারের সময় রাধান পণ্ডিত নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। গত ৪ মে ভোট গণনার সময় যখন টিভিকে অপ্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন রাধান পণ্ডিতই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে বিজয়ের বাসভবনে গিয়ে দেখা করেছিলেন।
তবে এই আবেগীয় সম্পর্ক দিয়ে মিত্রপক্ষ বা বিরোধী দল দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগামকে (ডিএমকে) শান্ত করা কঠিন ছিল। কারণ এই দলগুলো যেকোনো ধরনের কুসংস্কার বা জ্যোতিষশাস্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য পরিচিত।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশীকান্ত সেন্থিল প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘মাথায় ঢুকছে না। একজন জ্যোতিষীর কেন ওএসডি পদ প্রয়োজন? কেউ কি বুঝিয়ে বলবেন?’
অন্যদিকে ভিসিকের সাধারণ সম্পাদক ডি রবিকুমার এক্সে লেখেন, ‘একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকারে এটি মেনে নেওয়া যায় না। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর উচিত, এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা।’
কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট) বা সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শানমুগাম পি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করা সরকারের দায়িত্ব। রাধান পণ্ডিত, যাকে আজ মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তিনি মূলত একজন জ্যোতিষী।
‘সরকারি খরচে এমন একজন ব্যক্তিকে কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিলে মানুষের মধ্যে জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি বিশ্বাস আরও বাড়বে। সরকারের এই নিয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়! তিনি রাজনৈতিক পরামর্শ দেবেন, এটাও মানা যায় না।’
দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে অবশ্য রাজনৈতিক নেতা ও জ্যোতিষীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। ভেট্রিভেলের হাই-প্রোফাইল মক্কেলদের তালিকায় তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতাও ছিলেন।
শোনা যায়, জয়ললিতার আমলে অনেক বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এই জ্যোতিষীর পরামর্শেই নেওয়া হতো। তবে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় জয়ললিতা জেল খাটবেন না, জ্যোতিষীর এই ভবিষ্যদ্বাণী ভুল হওয়ার পর তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল।