সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে দুটি আসন থেকে জয়ী হলেও শেষ পর্যন্ত ভবানীপুরকেই বেছে নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার (১৩ মে) এই আসনের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের অন্য আসন নন্দীগ্রাম থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন শুভেন্দু, যেখানে শিগগিরই উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিন বিধানসভা চত্বরে সাংবাদিকদের শুভেন্দু বলেন, ‘উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে নন্দীগ্রাম থেকে অন্য কেউ বিধায়ক নির্বাচিত হবেন। তবে সেখানকার মানুষ যেন আমার অভাব বোধ না করেন, আমি তা নিশ্চিত করব। পুরো রাজ্যের পাশাপাশি নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে দেওয়া উন্নয়নের সব প্রতিশ্রুতি আমি পূরণ করব।’
২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ফিরোজা বিবি ছিলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক আর শুভেন্দু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলটির প্রথম সারির নেতা ছিলেন।
সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালে নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিতে শহীদের মা ফিরোজা বিবি যখন পরে বিধায়ক হলেন, আমি নিজে বিধায়ক না হয়েও তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছিলাম। এবারও আমি একই ভূমিকা পালন করব।’
পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেন।
দীর্ঘকাল ধরে মমতার সবচেয়ে নিরাপদ রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে জয়লাভ করে শুভেন্দু তৃণমূলের ওপর এক বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক আঘাত হেনেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজেপি। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।