প্রকাশ্যে গবাদি পশুর মাংস কাটা ও বিক্রিতে ১৯৫০ সালের প্রাণীসম্পদ আইন অনুযায়ী কিছু নিয়ম কানুন বলবৎ করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই নির্দেশ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়া গবাদি পশু হত্যা করা যাবে না।
এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের কিছু গবাদি পশুজাত মাংস ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসায় প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। কোরবানির ঈদের আগে এই নির্দেশ আসায় গবাদি পশুর বাজারে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ ।
মাংস বিক্রি নিয়ে নতুন নির্দেশিকায় যা আছে
ভারতে পশ্চিমবঙ্গ হলো এমন একটি রাজ্য, যেখানে গোমাংস বিক্রি ও খাওয়ার উপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। রেস্তোরাঁয় বিভিন্ন পদ যেমন মেলে, তেমনই বাজার থেকেও কিনে আনা যায় গোমাংস, যা উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যে স্বাভাবিক চিত্র নয়। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ক্যাবিনেটের তরফে যে নির্দেশিকাগুলি জারি করা হয়েছে, সেগুলি নতুন নয়, ১৯৫০ সালের প্রাণীসম্পদ সুরক্ষা আইনটিকে তিনি বলবৎ করতে জোর দিয়েছেন।
বিজেপির তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার থাকার সময়ে এই আইনটি কঠোরভাবে বলবৎ করতে সরকার গরিমসি করেছে।
এই আইনটিতে বলা হয়েছে, ১৪ বছরের নিচে বয়স এমন গবাদি পশুকে বলি দেওয়া যাবে না। পশুর মাংস কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা পশ্চিমবঙ্গের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লিখিত অনুমতি প্রয়োজন।
এই আইনটিতে পশু অর্থে ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মোষকে বোঝানো হয়েছে। বলা হয়েছে, পৌরসভার চেয়ারম্যান ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রথমে প্রাণীটিকে দেখে ঠিক করবেন যে পশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি কিনা। যদি তা না হয়, পশুটি যদি বিকলাঙ্গ হয় বা সন্তান প্রজননে অক্ষম হয়, সেক্ষেত্রেও কর্মকর্তা বলি দেওয়ার সার্টিফিকেট ইস্যু করতে পারেন।
নির্দিষ্ট কারণ না দেখিয়ে যদি আধিকারিক শংসাপত্র জারি না করেন, তবে রাজ্য সরকারের কাছে নালিশও জানাতে পারেন ওই গবাদি পশুর মালিক।
এই নিয়ম সব ধর্মের বলিপ্রথা ও মাংস বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই আইনটি যে এই বছর নতুন করে বলবৎ করা হচ্ছে তা নয়, বরং আগেও ২০২৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী এই আইন বলবৎ করেছিল রাজ্য সরকার। এ ছাড়া পশুর মাংস ঢেকে বিক্রি করা ও বাসি মাংস বেশিক্ষণ পরে বিক্রি না করা প্রভৃতি বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার।