সংঘাত অবসানে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চুক্তিতে যে ১৪ বিষয় থাকছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। তবে এসব দফা কোনো পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের পক্ষ থেকেও চুক্তির বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এই চুক্তিতে কী কী অন্তর্ভুক্ত আছে?
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি।
২. ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার।
৩. ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।
৪. ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার।
৫. ইরানের ব্যবস্থাপনায় ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা।
৬. যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা ইরানকে প্রদান।
৭. ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
৮. পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন না করার বিষয়ে ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত।
৯. মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি না করা এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার।
মেহর নিউজ আরও জানিয়েছে, ইরানের জব্দ করা সম্পদের অন্তত অর্ধেক মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত, ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের আগে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে না।
এতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে এর সমর্থন সংক্রান্ত আলোচনা আলোচ্যসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর সুইজারাল্যান্ডে
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জানান, সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
শেহবাজ শরিফ আরও বলেন, সমঝোতা স্মারকে সম্মতি হওয়ার পর মধ্যস্থতাকারীরা এ সপ্তাহে বেশ কয়েকটি প্রাক-বাস্তবায়ন বৈঠকের আয়োজন করবেন। এসব বৈঠকে চুক্তি বাস্তবায়নের কারিগরি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
তিনি জানান, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সই হবে। আলোচনায় সহায়তার জন্য কাতারকেও ধন্যবাদ জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র: আল-জাজিরা