ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রহ্লাদ যোশীর নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের প্রহ্লাদ বলেন, ‘কর্তব্যবোধ ও বিনয়ের সঙ্গে আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করছি। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।
‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের গত ১২ বছরে বহু ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গত চার থেকে পাঁচ বছরে ধর্মেন্দ্র প্রধান জাতীয় শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন করেছেন এবং শিক্ষা খাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন করব।’
দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ৩৫তম দিনে ৫৭ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, পরিস্থিতিকে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ যেন কাজে লাগাতে না পারে, সে কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, ‘চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারের জন্য কাজ করে আসছি। আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি, শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দূরদর্শী শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী জাতি গঠনের মূল ভিত্তি।’
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও পরমাণু শক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা যন্তর মন্তরে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
তারা বলেন, কেন্দ্র তাদের দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দেওয়ায় ‘সদিচ্ছার ভিত্তিতে’ তারা আন্দোলন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করা অভিজিৎ দিপকের গড়ে তোলা ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান দাবিই ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
সম্প্রতি তিনি স্নাতকোত্তর শেষে ভারতে ফিরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।