ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ফের বিক্ষোভ শুরুর হুঁশিয়ারির মধ্যে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে আসাম সরকার। শুধু আসাম নয়, বিহারও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করা শিক্ষার্থীদের সব মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসাম সরকার জানায়, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে পাঁচটি মামলা করা হয়েছিল। এসব মামলায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত রোববার সন্ধ্যা ৬টার আগে করা মামলাগুলোর বিষয়ে সবদিক বিবেচনা করে এবং পরীক্ষা ও উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি জোরদার ও কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে আসাম সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এসব আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজ্যের পুলিশ কর্তৃপক্ষ আর কোনো আইনি ব্যবস্থা নেবে না।’
আসাম সরকার আরও জানায়, আইন অনুযায়ী আসামে করা সব মামলা, সেগুলো যে পর্যায়েই থাকুক না কেন, দ্রুত প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
এছাড়া এসব মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত বিষয়গুলো দ্রুত পর্যালোচনা করা হবে বলে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই। এ-সংক্রান্ত বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে গণ্য করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে আর কোনো কার্যক্রম চালানো হবে না।
এর আগে বিহার সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবার জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে।
গত শনিবার বিহারজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযানের পর এ সিদ্ধান্ত আসে। ওই অভিযানে ৬৯৪ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছিল।
আজ মঙ্গলবার বিহার ও আসাম সরকারের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আসাম সরকারের বিজ্ঞপ্তি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘আসাম সরকারও গ্রেপ্তার হওয়া সব আন্দোলনকারীকে মুক্তি, ভবিষ্যতে কোনো এফআইআর বা আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং বিদ্যমান সব এফআইআর প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা দিল।’
এক্সে দেওয়া আরেক পোস্টে সৌরভ লেখেন, ‘বিহার ও আসামের বিজ্ঞপ্তির পর আমরা এখন নিশ্চিত হয়েছি, রাজস্থানেও কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে না। কোনো এফআইআর দায়ের করা হয়নি, ভবিষ্যতেও করা হবে না।
‘আন্দোলনকারীদের স্বার্থে অন্যান্য বিজেপি বা এনডিএ-শাসিত রাজ্য থেকেও একই ভাষায় বিজ্ঞপ্তি নিশ্চিত করতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। তরুণদের এই লড়াইয়ে আমরা কখনো তাদের একা ছেড়ে যাব না।’