গরুর মাংসের বাড়তি দাম কমাতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ মেট্রিক টন গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কর্মজীবী মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য মাংসের দাম কমানোর পাশাপাশি দেশীয় খামারিদের গরুর পাল পুনর্গঠনের সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দেওয়া এক ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, আগামী ৯০ দিনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ আমদানি করা গরুর মাংস অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।
ট্রাম্পের দাবি, আমদানিকারকেরা এসব গরুর মাংস বর্তমান বাজারদরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম দামে বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এতে সাধারণ ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে গরুর মাংস কিনতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেশটিতে গবাদিপশুর সংখ্যা কমে যাওয়াকে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন কৃষি বিভাগের জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গরুর মাংস উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত গাভীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখে নেমে এসেছে। এক বছর আগের তুলনায় এই সংখ্যা ১ শতাংশ কম। একই সময়ে ২০২৬ সালে বাছুর উৎপাদনের পূর্বাভাসও ২ শতাংশ কমেছে।
কানসাস সিটি ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভোক্তাদের চাহিদা বেশি থাকলেও দেশীয় সরবরাহ সীমিত হওয়ায় গরুর মাংসের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় ও বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক খামারি দ্রুত গরুর পাল বাড়াতে আগ্রহী হচ্ছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের কিমার দাম ইতোমধ্যে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কিমা করা গরুর মাংসের গড় দাম প্রতি পাউন্ডে ৬ দশমিক ৬৯ ডলারে পৌঁছায়।
বাজারে সরবরাহ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনা থেকে বছরে অতিরিক্ত ৮০ হাজার মেট্রিক টন চর্বি কম থাকা গরুর মাংসের অংশ শুল্কমুক্তভাবে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ ছাড়া গবাদিপশুর জন্য ক্ষতিকর এক ধরনের পরজীবী পোকা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় প্রায় এক বছর মেক্সিকো থেকে গরু আমদানিতে বিধিনিষেধ ছিল। সম্প্রতি সেই আমদানি আবার চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গরুর মাংসের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে দেশটির নিজস্ব গরুর পাল পুনর্গঠনের সুযোগ করে দেওয়াও এর অন্যতম লক্ষ্য।
ট্রাম্প বলেছেন, দেশীয় খামারিদের সহায়তা ও গরুর পাল পুনর্গঠনের পাশাপাশি সাময়িক এই আমদানির মাধ্যমে মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য বাড়তি গরুর মাংসের সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।