কমদামে রুশ জ্বালানি তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ ঠেকাতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি আটকে গেছে। এর পেছনে এককভাবে দায়ী করা হচ্ছে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করার কথা থাকলেও নরেন্দ্র মোদি তা করেননি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিটি আটকে যাওয়ার সরাসরি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির টেলিফোন কল না করার বিষয়টি ভূমিকা রেখেছে। শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক জানান, চূড়ান্ত আলোচনার জন্য মোদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ফোন করার কথা থাকলেও তিনি তা করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ‘অল-ইন’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুটনিক এই মন্তব্য করেন।
মার্কিন বাণিজ্য সচিব বলেন, সবকিছু প্রস্তুত ছিল। শুধু মোদিকে প্রেসিডেন্টের কাছে একটি ফোন করার দরকার ছিল। কিন্তু তারা (ভারত) সম্ভবত এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেনি। তাই মোদি ফোন করেননি।
গত বছর ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মোদির পক্ষ থেকে যোগাযোগ না আসায় আলোচনাটি ভেস্তে যায় বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, সরাসরি কথা বললে একতরফা চাপের মুখে পড়ার ভয়েই সম্ভবত মোদি ফোন করা থেকে বিরত ছিলেন।
এই অচলাবস্থার জেরে গত আগস্টে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্ক হার। মূলত রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ভারত যদি রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরতা না কমায়, তবে এই শুল্ক আরও বাড়ানো হতে পারে। এই হুমকির প্রভাবে ভারতের মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং রুপির মান রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
ভারত মূলত ব্রিটেন ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত শুল্ক হারের সুবিধা দাবি করে আসছিল। তবে হাওয়ার্ড লুটনিক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, সেই সুযোগের সময়সীমা ইতোমধ্যেই পার হয়ে গেছে। মার্কিন বাণিজ্য সচিবের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের বিষয়ে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।