ঢাকার দোহার উপজেলায় অবস্থিত দোহার প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকেরা। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে মূলধারার সাংবাদিকেরা উপস্থিত হয়ে প্রেসক্লাবের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় তারা বর্তমান বিনা ভোটের কমিটিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।
এ সময় সাংবদিকেরা জানান, প্রেসক্লাব একটি স্বাধীন সংগঠন। এখানে সাংবাদিকেরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আসবেন। কিন্তু, বর্তমান এই অনির্বাচিত কমিটি দেড় বছর ধরে প্রেসক্লাবকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করে স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রেসক্লাবের চাবি তাদের দায়িত্বে রেখে নিজেদের ইচ্ছেমতো প্রেসক্লাব ও মিটিং পরিচালনা করেন। অন্য সদস্যরা চাবি চাইলেও দেওয়া হয় না।
সাংবাদিকরা আরও জানান, বুধবার জরুরী নিউজ সংক্রান্ত কাজে দোহারের মূলধারার গণমাধ্যম কর্মীরা আলোচনা সভা ডাকেন প্রেসক্লাবে। এর দুইদিন আগে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানের কাছে একাধিকবার প্রেসক্লাবের চাবি চাওয়া হলেও তিনি চাবি দিতে অস্বীকার করেন। পরে নির্ধারিত সময়ে সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবে গিয়ে মুঠোফোনে আবারও চাবি চাইলে আতাউর চাবি দিবেন না বলে জানিয়ে দেন। পরে উপস্থিত সাংবাদিকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রেসক্লাব ভবনের মূল ফটকে তালা দিয়ে বর্তমান কমিটিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।
উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, শুধুমাত্র গুটি কয়েক নামধারী সাংবাকিদের জন্য প্রেসক্লাবের কার্যক্রম হতে পারে না। এটি একটি স্বেচ্ছাচারিতা। সাংবাদিকেরা আরও বলেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে গঠনতন্ত্র না মেনে বেশ কয়েজনকে সদস্য করা হয়েছে। এছাড়া দোহারের মূল ধারার অনেক সাংবাদিকদেরকে প্রেসক্লাবের বাইরে রেখেছে এই কমিটি। অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন কারন দেখিয়ে একাধিক সদস্যদের দূরে রেখে বহিরাগত লোকজন দিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করাচ্ছে এই কমিটি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সমকালের দোহার প্রতিনিধি মাহাবুবুর রহমান টিপু, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের দোহার প্রতিনিধি শামিম আরমান, কালেরকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়ার দোহার প্রতিনিধি কাজী জোবায়ের আহমেদ, প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি তানজিম ইসলাম, নাগরিক প্রতিদিন’র প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম, ইছামতি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা কুদ্দুস, সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তার সহকারী সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, মুক্তখবরের প্রতিনিধি রিদয় মাহমুদ, এশিয়া বার্তার স্টাফ রিপোর্টার ফাহিম হোসেন, দোহার বার্তা টুয়েন্টিফোর’র প্রতিনিধি মোবারক হোসেনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকেরা। এ সময় তারা এ সমস্যার সমাধানে প্রেসক্লাবে উপদেষ্টা মন্ডলীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।