নদী, বদ্বীপ ও উপকূলীয় ভৌগোলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু মিল। সেই মিলের জায়গা থেকেই বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও সুপেয় পানির সংকট দেখতে বরিশালের বাকেরগঞ্জে সফর করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইয়োরিস ভ্যান বোমেল।
সফরে তিনি দুর্গম এলাকায় গ্রামীণ মানুষের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহের উদ্যোগ পরিদর্শন করেন এবং এ ধরনের কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বাকেরগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকায় সফরের সময় রাষ্ট্রদূত স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং সুপেয় পানি সরবরাহের বাস্তব চিত্র ঘুরে দেখেন। ম্যাক্স ফাউন্ডেশন, ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ ও ম্যাক্স ট্যাপ ওয়াটারের সহায়তায় অফ-গ্রিড ব্যবস্থায় কীভাবে দুর্গম এলাকায় পানি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, তা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ডাচ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
রাষ্ট্রদূত ইয়োরিস ভ্যান বোমেল বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে মানুষের জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানির নিশ্চয়তা দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ঘরে ঘরে ট্যাপের মাধ্যমে পানি পৌঁছানো গেলে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পানি সংগ্রহের কষ্ট ও নিরাপত্তাঝুঁকি কমবে। এ ধরনের উদ্যোগ সফল করতে স্থানীয় মানুষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইয়োকা ল্য পুলে বলেন, প্রায় দুই দশক আগে তাঁদের মানবিক কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়। উপকূলীয় মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তারা সুপেয় পানির সংকটকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
বরিশাল সফরের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ার মধ্যেও হাসিমুখে নিজের মুগ্ধতার কথা জানান ডাচ রাষ্ট্রদূত। তিনি বরিশালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মানুষের আতিথেয়তার প্রশংসা করেন। ডাচ সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উপকূলীয় মানুষের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সফরের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রদূত বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ভাসমান বাজারও ঘুরে দেখেন। স্থানীয় জীবনযাত্রার ব্যতিক্রমী এই চিত্র তাকে আকৃষ্ট করে। পাশাপাশি বরিশালের মাছের স্বাদ ও বৈচিত্র্যেরও প্রশংসা করেন তিনি।
সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ টি এম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স ফাউন্ডেশন সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক।