শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের কল রেকর্ড ফাঁস
রাজধানীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে গত মঙ্গলবার যে বুলেটের শব্দ শোনা গিয়েছিল, তার প্রতিধ্বনি এখন আছড়ে পড়ছে মোহাম্মদপুরের আকাশে। গোয়েন্দা তথ্যের গভীর থেকে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব সংকেত। বছিলা পশুর হাটের একচ্ছত্র আধিপত্য আর মোহাম্মদপুরের অপরাধ জগতের সিংহাসন নিয়ে বিরোধই যে খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ, তার অকাট্য প্রমাণ মিলছে সম্প্রতি ফাঁস হওয়া গোপন অডিওবার্তায়।
বাতাসের কানে কানে এখন কেবল ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন। ফাঁস হওয়া সেই অডিও রেকর্ডটি টিটন হত্যার নেপথ্য দাবিগুলোকে আরও জোরালো করে তুলেছে। প্রবাসের নিরাপদ আশ্রয়ে বসে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন যখন তার স্থানীয় ক্যাডারদের দাবার গুটির মতো চাল দিচ্ছিলেন, তখনই হয়তো আঁকা হয়েছিল শ্যালক টিটনের মৃত্যু পরোয়ানা। রক্তের সম্পর্কের চেয়েও যখন মাটির মায়া আর হাটের ইজারা বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখনই আপনজনের ইশারায় রাজপথ রঞ্জিত হয় বুলেটের তপ্ত সিসায়।
অডিওবার্তায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক অদৃশ্য সাম্রাজ্য বিস্তারের নীল নকশা উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি শব্দ যেন এক একটি বুলেটের চেয়েও ধারালো। সেই কণ্ঠস্বরে দম্ভের সঙ্গে জানানো হয়, ‘মাসুম থাকবে মোহাম্মদপুর থানায়’—আর এই খবর নাকি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুয়ারে। যেন আইনের আঙিনাতেই নিজেদের আধিপত্যের বীজ বুনে দেওয়া হয়েছে অত্যন্ত সন্তর্পণে। অডিওর সবচেয়ে তপ্ত বাক্যটি ছিল—‘মোহাম্মদপুর হাটটা একচেটিয়া নেওয়া যাবে’। এখানে কেবল ব্যবসার হিসাব নয়, বরং লুকিয়ে আছে পেশিশক্তির দাপটে পুরো এলাকার অর্থনীতিকে কুক্ষিগত করার এক পৈশাচিক আকাঙ্ক্ষা।
পুরো কথোপকথন যেন এক দাবার বোর্ড, যেখানে প্রতিটি গুটি সাজানো হয়েছে অত্যন্ত সুচারুভাবে। ষড়যন্তের জাল বিস্তৃত হয়েছে রনি নামের একজনের ওপর, যাকে বুঝিয়ে নিজেদের তাঁবুতে টেনে আনার নির্দেশ এসেছে ওপর মহল থেকে। অন্যদিকে, মিল্টনকে সরিয়ে দিতে রাজেশ আর কবিরের ফোনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে অদৃশ্য মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। মাঠ পর্যায়ের প্রভাব বিস্তার আর প্রতিপক্ষকে নিস্তব্ধ করার এই সুপরিকল্পিত মিশনটি বলে দিচ্ছে—ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে এখন বইছে এক কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস।
অন্ধকারের এই গোপন সংলাপ কানে পৌঁছানো মাত্রই নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ফাঁস হওয়া ওই ভয়েস রেকর্ডে যাদের নাম উচ্চারিত হয়েছে, তাদের প্রতিটি কদম এখন গোয়েন্দা নজরদারির আওতায়। অপরাধের এই বিষবৃক্ষকে উপড়ে ফেলতে তাদের গতিবিধির ওপর বসানো হয়েছে কড়া পাহারা।
মোহাম্মদপুরের রাজপথ কি তবে এই অস্থিরতা কাটিয়ে ফিরে পাবে শান্তির সুবাতাস? সেই উত্তর লুকিয়ে আছে প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারি আর আসন্ন অভিযানের সাফল্যে।