প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়াতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না এবং প্রতিটি ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিশ্চিত করতে হবে।’
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব নির্দেশ দেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা খুবই স্পষ্ট—ব্যয় কমাতে হবে এবং কোন খাতে কী পরিমাণ ব্যয় হচ্ছে তা যুক্তিসঙ্গতভাবে যাচাই করতে হবে।’
তিনি আরও জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে মোট ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়সম্বলিত ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮ হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ ৫ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
অনুমোদিত ১৪টি প্রকল্প হলো—স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘শহুরে জনসংখ্যার জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ প্রকল্প, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধন)’, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ (৩য় সংশোধন)’ প্রকল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘অভিযোজন ও ঝুঁকি হ্রাসের জন্য স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো (রিভার) প্রকল্প (১ম সংশোধনী)’ প্রকল্প, ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন পরিচ্ছন্ন কর্মী নিবাস নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প, ‘ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ’ প্রকল্প, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ’ প্রকল্প, ‘সীমান্ত সড়ক (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) নির্মাণ প্রকল্প-২য় পর্যায়’, ‘বৈরাগীরপুল (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক (জেড-৮৯১০) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প, ‘বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের (এন-৮০৯) বরিশাল (চর কাউয়া) হতে ভোলা (ইলিশা ফেরী ঘাট) হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প, ‘বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষ্মীপাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর উপর গোমা সেতু নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্প এবং ‘মধুখালী হতে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫টি নতুন প্রকল্প, ৫টি সংশোধিত প্রকল্প এবং ৪টি মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রকল্প।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এছাড়া সভায় উপস্থাপিত প্রকল্পের ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ক্রমিকের অর্থাৎ বরিশালকেন্দ্রিক তিনটি প্রকল্পেরই মেয়াদ বৃদ্ধি হলেও কেন মোট পাঁচ বার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, তা তদন্তে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ৩৩টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেক সভাকে অবহিত করা হয়।