সংরক্ষিত নারী আসন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের জমা পড়েছে মাত্র দুইটি। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) রুহুল আমিন মল্লিক জানান, এনসিপির মনিরা শারমিন তার প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে আর বিএনপির প্রার্থী মাধবী মারমার প্রার্থীতা বাতিল চেয়ে দুইটি আপিল আবেদন করা হয়েছে। আপিলের দুইটি শুনানিই সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।
রোববার বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত নারী প্রার্থী মাধবী মারমার প্রার্থীতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছেন দলটির ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর তিনি আপিল করেন। আপিল শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি চন্দ্রা চাকমা। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত নারী প্রার্থী মাধবী মারমা জেলা পরিষদের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ না করে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া গত ২১ এপ্রিল জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। যা আইনিভাবে অবৈধ। সেজন্য আমি তার মনোনয়নপত্র বাতিল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আবেদন করেছি। আশা করি নির্বাচন কমিশন থেকে এ বিষয় গুরুত্বর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ সময় তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী ছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমিও একজন প্রার্থী ছিলাম। বিএনপি থেকে নমিনেশন কিনেছিলাম এবং নির্বাচন কমিশন অফিস থেকেও আমি কিনেছিলাম।’
সরকার তো স্থানীয় সরকারগুলোকে বিলুপ্ত করেছিল, আপনাদের পার্বত্য জেলাগুলোতে কি বিলুপ্ত হয়নি জানতে চাইলে চন্দ্রা চাকমা বলেন, ‘অন্যান্য জেলা পরিষদের আইন কিন্তু এক ধরনের আর তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের আইন কিন্তু আরেক ধরনের। জেলা পরিষদের আইনে কিন্তু লেখা আছে যে পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ইত্যাদি জনসেবক বলে গণ্য হইবেন, এটা একটা বিষয়। আরেকটি বিষয় হচ্ছে চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের পদত্যাগ সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর যুক্ত পত্র যোগে চেয়ারম্যান এবং চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র যোগে যেকোন সদস্য নিজের পদ ত্যাগ করতে পারবেন। পদত্যাগ গৃহীত হওয়ার তারিখ থেকে পদত্যাগ কার্যকর হবে ও পদত্যাগকারীর পদ শূন্য হবে। উনি কিন্তু পদত্যাগ করেননি। উনি ২১ তারিখে কিন্তু এখানে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। যার কারণে তিনি জেলা পরিষদের আইন যেমন লঙ্ঘন করেছেন তেমনি নির্বাচন কমিশনের যে আইন আছে সেটাও তিনি লঙ্ঘন করেছেন।’
তবে চন্দ্রা চাকমার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাধবী মারমা। মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার ইতিমধ্যে পদত্যাগ করা হয়ে গেছে ও এটার কপি অনুমোদন হয়ে যেখানে যাওয়ার সেখানে চলেও গেছে। আমি ২০ এপ্রিল পদত্যাগ করেছি।’
এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেওয়া রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন।
মনিরা শারমিন বলেন, ‘আমি আপিল করেছি। আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায় শুনানির সময় দিয়েছে কমিশন।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরি হিসেবে আমি যে পর্যায়ে কাজ করেছি, সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ক্ষমতা ছিল না। কাজেই আমি মনে করি না যে এটা মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার মতো।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর অতিবাহিত না হওয়ার কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।
এদিকে, গত ২২ এপ্রিল জামায়াত জোটের ১৩ প্রার্থীর মধ্যে ১২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। অন্যদিকে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনের যুগ্মসচিব মিন উদ্দিন খান।
আপিল শুনানির জন্য নির্ধারিত তারিখ হলো ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। ২৯ তারিখে প্রতীক বরাদ্দ ও সংরক্ষিত ৫০ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।