বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি এবং সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়ে মন্ত্রী-এমপিদের সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সভায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি দলের ভেতরে কোনো ধরনের কোন্দল বা বিভেদ তৈরি না করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
সংসদ সদস্যদের দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ভূমিকা রাখার নির্দেশ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ‘সৎ ও যোগ্য’ প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রার্থী বাছাই ও সমর্থনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সভা সংশ্লিষ্ট একাধিক সংসদ সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। ফলে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে শুধু পছন্দের বা নতুন প্রার্থীদের সামনে আনা ঠিক হবে না। এ ক্ষেত্রে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে, যাতে কোনো ক্ষোভ বা বিভেদের সৃষ্টি না হয়। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব বা বিরোধ তৈরি হয়—এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সভায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সব মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেন।
এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রচার, অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি এসব অপপ্রচারের যথাযথ জবাব দিতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সরকারের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান বিভিন্ন সংকট নিয়ে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার সঠিক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশেষ করে বিদ্যুৎ-জ্বালানি, সার ও গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে মানুষকে সরকারের অবস্থান ও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করতে সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে এসব বিষয়ে যেন কোনো ধরনের ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, সারের সংকট কাটাতে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন। সার সরবরাহ ও বিতরণ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সরকার কঠোর নজর রাখছে বলেও সভায় জানানো হয়।
সারসহ বিভিন্ন সংকটকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অপপ্রচার চালাতে না পারে, সে বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।