ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারকালে এক হকারকে টাকা দিতে দেখা গেছে ব্যারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবিরকে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় পান বিক্রি করা এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছেন শাহরিয়ার কবির।
কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ওই বিক্রেতার হাতে এক হাজার টাকার একটি নোট গুজে দেন।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ওই বয়স্ক ব্যক্তির কাছে ব্যবসার অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মোটামুটি’। এ সময় শাহরিয়ার কবির প্রশ্ন করেন, ‘মোটামুটি কেন?’ জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি ভালো না। সবাই ভয়ের মধ্যে আতঙ্ক, কোন সময় কী করে বয়।’ তখন শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমরা মুসলমান। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কার ক্ষমতা আছে ভালো করার?’ তিনি আরও জানতে চান, ‘রিজিকের মালিক কে? আপনার সঙ্গে এই মুহূর্তে আমার দেখা হবে এর মালিক কে?’ উত্তরে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আল্লাহ।’ এরপর শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘তাহলে সে যেটা বলছে তার বাইরে গিয়ে দেশ চললে ভালো হবে?’
ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লে শাহরিয়ার কবির বলেন, “মানুষের সাহায্য করা বিপদ হয়ে গেলো। দোকানে বাচ্চাদের সাহায্য করাটা (খেলনা কিনতে টাকা দেয়া) বিপদ হলো না কিন্তু গরিব মানুষটাকে সাহায্য করাটা বিপদ হয়ে গেলো।”
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা হয়েছে আমার। তিনি বলছিলেন তার সারাদিন বিক্রি হয়নি। আমি মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে এক হাজার টাকা দিয়েছি। এটা সব ক্যামেরার সামনেই। এক্ষেত্রে তার কাছে আমি তো ভোট চাইনি।'
তিনি আরও বলেন, 'এই ব্যক্তির আগে পরে আমি ছোট ছোট বাচ্চাদেরও খেলার সামগ্রী কিনতে টাকা দিয়েছি। এগুলো সব অনেকগুলো ক্যামেরার সামনেই দিয়েছি।'
শাহরিয়ার কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, 'আমি বাচ্চাদেরও টাকা দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে, তোমরা আবার ভেবো না যে, নির্বচনের জন্য এটা দিচ্ছি।” একই জায়গায় এই ঘটনাগুলো ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গরিব মানুষেরটা ইস্যু হয়ে গেল আর বাচ্চাদেরটা ইস্যু হলো না!'
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ এটিকে মানবিক সহায়তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ নির্বাচনী সময় এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের সম্ভাব্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।