ইউরোপের নকআউট লড়াইয়ে ঘরের মাঠে কিছুটা চাপে পড়েও শেষ পর্যন্ত নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বই দেখাল রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম লেগে পর্তুগালে ১-০ গোলের গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়ে ফেরার পর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আত্মবিশ্বাসী ভাবেই নামে আরবেলোয়ার শিষ্যরা। তবে শুরুটা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না।
ম্যাচের ১৪ মিনিটে রাফা সিলভার গোলে এগিয়ে যায় বেনফিকা। হঠাৎ করেই স্তব্ধ হয়ে পড়ে বার্নাব্যুর গ্যালারি। দুই লেগ মিলিয়ে সমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে পর্তুগিজ ক্লাবটি। তবে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। ডি বক্সের ভেতর একাধিক ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান অরেলিয়াঁ চোয়ামেনি। ফলে ম্যাচে নতুন গতি এনে দেয় এবং রিয়াল ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় লস ব্লাঙ্কোসরা। ম্যাচের ৮০ মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি জাল খুঁজে নেন। আগের লেগে বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার হওয়া এই ব্রাজিলিয়ান তার স্বভাবসুলভ নাচে উদযাপন করেন গোলটি, যা গ্যালারিতে বাড়তি উচ্ছ্বাস যোগ করে।
শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে রিয়াল মাদ্রিদ। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ ষোলোর টিকিট কেটে নেয় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ইউরোপ সেরার মঞ্চে তাদের ধারাবাহিক আধিপত্যের আরেকটি প্রমাণ মিলল এই ম্যাচে।
এখন নকআউট পর্বের পরবর্তী ধাপে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আলোচনায় আছে স্পোর্টিং সিপি কিংবা ম্যানচেস্টার সিটি; যে প্রতিপক্ষই আসুক, আত্মবিশ্বাসে ভরপুর রিয়াল যে প্রস্তুত, সেটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বার্নাব্যুর এই রাতেই।