এল ক্লাসিকোর শিরোপা উৎসবের মাঝেও চোখের জল লুকাতে পারেননি হান্সি ফ্লিক। বার্সেলোনার জন্য এটি ছিল লিগ জয়ের রাত, কিন্তু জার্মান এই কোচের কাছে দিনটি ছিল গভীর ব্যক্তিগত বেদনারও। ম্যাচ শুরুর মাত্র ঘণ্টাখানেক আগে বাবার মৃত্যুসংবাদ পান তিনি। তবু নিজেকে সামলে টাচলাইনে দাঁড়িয়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন শেষ পর্যন্ত।
রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে বার্সেলোনা যখন চ্যাম্পিয়ন, তখন আবেগে ভেঙে পড়েন ফ্লিক। পরে জানান, সকালে মায়ের ফোনেই বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েছিলেন তিনি। ফ্লিক বলেন, ‘আজ সকালে মা আমাকে ফোন করে বললেন যে বাবা আর নেই। আমি ভেবেছিলাম খবরটি লুকিয়ে রাখব নাকি ছমার দলকে জানাব। আমার কাছে এই দল একটি পরিবারের মতো।’
ক্যাম্প ন্যুতে এল ক্লাসিকো শুরুর আগে ফ্লিকের বাবার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সেই সময় কোচিং স্টাফদের তাকে সান্ত্বনা দিতেও দেখা যায়। ম্যাচ শেষে শিরোপা উদযাপনের মাঝেও দিনটির আবেগ ভুলতে পারেননি বার্সা কোচ। তিনি বলেন, ‘এটি একটি কঠিন ম্যাচ ছিল এবং এই দিনটির কথা আমি কখনোই ভুলব না।’
শিষ্যদের প্রশংসায় ভাসিয়ে ফ্লিক আরও বলেন, ‘আমি পুরো স্কোয়াড এবং যারা আমাদের সমর্থন করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এমন একটি দারুণ দল পেয়ে আমি খুবই গর্বিত। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।’
সাধারণত খুব মাপযোগ করেই কথা বলেন ফ্লিক। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে প্রতিটি বাক্যে ফুটে উঠেছে খেলোয়াড়দের প্রতি তার ভালোবাসা ও গর্ব। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচে লড়াই করার এই দৃঢ় সংকল্পের জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমি সত্যিই এটার প্রশংসা করি। আমার দলটি চমৎকার এবং আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে অনেক গর্বিত। সমর্থকদের সাথে এই আবহে, একটি এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে এখানে থাকাটা রোমাঞ্চকর। এখন আমার মনে হয় আমাদের উদযাপন করা উচিত।’
শিরোপা উৎসবের সময় বার্সার খেলোয়াড়রাও বিশেষভাবে সম্মান জানান তাদের কোচকে। আনন্দে ফ্লিককে শূন্যে ছুড়ে উদযাপন করেন তারা। সেই মুহূর্ত নিয়েও আবেগাপ্লুত ছিলেন ফ্লিক।