বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ফলের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে ম্যাচটির রেফারিংও। ২০২২ বিশ্বকাপের পর আবারও ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর ম্যাচে রেফারি ইসমাইল এলফাথের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা মোট ১২টি ফাউল করলেও দলটি মাত্র একটি হলুদ কার্ড দেখে। এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ম্যাচ চলাকালীন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রাও একাধিকবার রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তৃতীয় মিনিটেই প্রথম বিতর্কিত ঘটনা ঘটে। লিওনেল মেসিকে চ্যালেঞ্জ করার পর ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনের ওপর ট্যাকল করেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। রিপ্লেতে দেখা যায়, এনজোর হাত অ্যান্ডারসনের মাথার পেছনেও লাগে। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা হলুদ কার্ডের দাবি জানালেও রেফারি কোনো শাস্তি দেননি।
এরপর প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের লেফটব্যাক জেড স্পেন্সকে দুবার ফাউল করেন জুলিয়ানো সিমেওনে। একবার বল দখলের লড়াইয়ে তাকে ফেলে দেন, আরেকবার হাত তুলে মুখে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। দুটি ঘটনাতেই খেলা চলতে থাকে, কোনো কার্ড দেখানো হয়নি।
জুড বেলিংহামও একাধিক কঠিন চ্যালেঞ্জের শিকার হন। আর্জেন্টিনার বক্সের সামনে মোলিনার ট্যাকলে তিনি ফ্রি-কিক পেলেও মোলিনাকে সতর্ক করা হয়নি। এছাড়া অফ-দ্য-বল অবস্থায় লিয়ান্দ্রো পারেদেসের ধাক্কায় বেলিংহ্যাম মাটিতে পড়ে গেলেও সেটি রেফারির নজর এড়িয়ে যায়।
সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে ১২টি ফাউল করেও আর্জেন্টিনার প্রথম হলুদ কার্ড আসে বিরতির ঠিক আগে। ইংল্যান্ডের পাল্টা আক্রমণ থামাতে ফাউল করায় লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে সতর্ক করেন রেফারি। তবে তিনটি ফাউল করা এনজো ফার্নান্দেজ পুরো ম্যাচেই কোনো কার্ড দেখেননি।
এই বিতর্কের মধ্যেই দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তনের নায়ক হন সেই এনজো। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরানোর পথ তৈরি করেন। পরে লিওনেল মেসির পাস থেকে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেস।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থক রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ফিফা বা ম্যাচ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি। তাই রেফারিং নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ফলাফল অপরিবর্তিত রয়েছে।