ঢাকার মেট্রোরেলের ৯টি স্টেশন ও গুলশানে নতুন আউটলেট চালুর মাধ্যমে রিটেইল ব্যবসায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)। নগরজীবনের দৈনন্দিন কেনাকাটা আরও সহজ ও দ্রুত করতে ‘ফ্রেশ সুপার মার্ট’ নামের এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) গুলশান-১-এর ৩৪ নম্বর রোডের ৪৮ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত ফ্রেশ সুপার মার্টের উদ্বোধন করেন এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এমজিআইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান বিউটি আক্তার, এমজিআইয়ের পরিচালক তাহমিনা মোস্তফা, তানজিমা মোস্তফা, তানভীর মোস্তফা ও ব্যারিস্টার তাসনিম মোস্তফা, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তায়েফ বিন ইউসুফ, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও হেড অব এক্সপোর্ট সামিরা রহমান এবং ওয়াশিকুর রহমান, রাশিক চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গুলশানের আউটলেটের পাশাপাশি মেট্রোরেলের মতিঝিল, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, পল্লবী, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা নর্থ সি গেট ও উত্তরা নর্থ ডি গেট স্টেশনে নতুন শাখা চালু করা হয়েছে। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে তেজগাঁও, মেঘনাঘাট ও মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনে (এমআইইজেড) তিনটি আউটলেট চালু করা হয়েছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশের নগরজীবন দ্রুত বদলাচ্ছে এবং ব্যস্ত মানুষের কেনাকাটার ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রতিদিনের যাত্রাপথেই গ্রাহকরা যাতে সহজে, দ্রুত ও মানসম্মত পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই ‘ফ্রেশ সুপার মার্ট’ চালু করা হয়েছে। তার ভাষায়, এই উদ্যোগ দেশের রিটেইল খাতে নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, এমজিআই ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে মানসম্মত পণ্যের বিশ্বস্ত নাম। গ্রাহকদের হাতে এমজিআই ব্র্যান্ডের পণ্য সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
দেশের খুচরা বাজারের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মোস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশে আধুনিক সুপারশপ ও ব্র্যান্ডভিত্তিক রিটেইল শপের উপস্থিতি এখনো পাঁচ শতাংশের কম। বিশ্বের অনেক উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশের তুলনায় এ হার কম হলেও এমজিআই এই ব্যবধান কমাতে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে সারাদেশে আরও ৫০টি আউটলেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এমজিআই জানায়, দেশের প্রচলিত সুপারশপ ও হাইপারমার্কেটের তুলনায় ফ্রেশ সুপার মার্ট ভিন্ন ধারণা নিয়ে এসেছে। ব্যস্ত মানুষের চলার পথেই প্রয়োজনীয় কেনাকাটার সুবিধা পৌঁছে দিতে ছোট পরিসরের এসব আউটলেট গড়ে তোলা হয়েছে। টোকিও, সিউল ও সিঙ্গাপুরের মতো শহরে এ ধরনের মডেল ইতোমধ্যে জনপ্রিয়।
বর্তমানে এমআরটি লাইন-৬ প্রতিদিন প্রায় চার লাখ যাত্রী বহন করছে। কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পর এ সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ফ্রেশ সুপার মার্ট প্রতিদিন লাখো যাত্রীর নাগালের মধ্যেই থাকবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিটি আউটলেটে দুগ্ধজাত ও হিমায়িত খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা পণ্য, কসমেটিকস এবং ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ইন-স্টোর ক্যাফেতে কফি ও বিভিন্ন স্ন্যাকস উপভোগের সুযোগ থাকবে। ফ্রেশ ব্র্যান্ডের পণ্যের পাশাপাশি দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যও বিক্রি করা হবে।
বিভিন্ন গবেষণার তথ্য তুলে ধরে এমজিআই জানায়, ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের খুচরা বাজার গড়ে ৭.৩ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। বর্তমানে আধুনিক খুচরা বাজারের অংশ মোট বাণিজ্যের পাঁচ শতাংশেরও কম, যেখানে এশিয়ার অনেক অর্থনীতিতে এ হার ১২ থেকে ২৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে পরিণত হবে।