তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের পর সেখানকার টারমার্কে পুড়ে যাওয়া বিমান দেখা যাচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা শনিবার (৭ মার্চ) জানিয়েছে। এর আগে ইসরায়েল নতুন করে আরও হামলার তথ্য দিয়েছিল।
তেহরানের অধিবাসীরা বিবিসি ফার্সিকে বলেছে, সবশেষ রাতটি ছিল তাদের কাছে সবচেয়ে ভয়াবহ, যেখানে প্রতি ঘণ্টায় হামলা হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া দেশটির সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তার প্রশাসনের কাছে গ্রহণযোগ্য কাউকে ইরানের নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত।
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে বলে তারা চিহ্নিত করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোর হুমকি প্রতিহত করতে কাজ করছে। নাগরিকদের মোবাইল ফোনে সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং তাদের সুরক্ষিত এলাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ইরাকের উত্তরাঞ্চলের বসরায় একটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার পর আগুন ধরে গেছে। সেখানকার নিরাপত্তাকর্মীরা বলছেন, তেল কমপ্লেক্সে বিদেশি কোম্পানির আবাসিক স্থাপনাগুলোকে ইরান টার্গেট করেছিল।
জাতিসংঘে ইরানের দূত আমির সাইয়েদ ইরাভানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় এক হাজার ৩৩২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
মেহরাবাদ বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ
তেহরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দরটিতে বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অবশ্য বলছে, বিমানবন্দরের কিছু অংশ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর ও প্রধান অভ্যন্তরীণ হাব মেহরাবাদ বিমানবন্দরে আগুনে জ্বলতে থাকা বিমান ও বড় বড় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে—এমন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রত্যক্ষদর্শীরা শেয়ার করেছেন। শুক্রবার স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতেও দেখা গেছে যে বিমানবন্দরে একাধিক বিমান উপস্থিত ছিল। এর আগে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ বলেছিল, তারা ইরানে বিস্তৃত পরিসরের নতুন হামলা শুরু করছে।
এর আগে ৪ মার্চও তারা বিমানবন্দরটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। তখন তারা বিমানবন্দরের প্রতিরক্ষা ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থার কিছু অংশ ধ্বংস করার দাবি করেছিল। এর মধ্যে বিমানবন্দরের হেলিকপ্টার তৈরির অংশও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নতুন হামলায় বিমানবন্দরের ঠিক কোন কোন অংশ বোমাবর্ষণের শিকার হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গত রাতের হামলা আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র ছিল।
হামলা ঠেকানোর দাবি সৌদি আরবের
সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা একটি তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছিল—এমন ছয়টি ড্রোন এবং একটি বিমানঘাঁটির দিকে ছুটে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামাজিক মাধ্যম এক্সে এই তথ্য জানিয়েছেন।
ড্রোনগুলো দেশের দক্ষিণের বিশাল একটি মরুভূমি এলাকায় প্রতিহত করা হয়। এই মরুভূমিতে বিপুল তেলের মজুত রয়েছে, যার মধ্যে শায়বাহ তেলক্ষেত্র অন্যতম। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, এই তেলক্ষেত্রই ইরানের ওই হামলার লক্ষ্য ছিল।
সৌদি আরামকো জানিয়েছে, এই তেলক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন হয়।
এ ছাড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটির দিকে যাচ্ছিল বলেও জানানো হয়েছে। ইরানে হামলার আগে ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন বিমানবাহিনী তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে এই ঘাঁটিকে ব্যবহার করেছিল।
ইরানের ৩ হাজার টার্গেটে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা এ পর্যন্ত ইরানের তিন হাজারের বেশি টার্গেটে হামলা চালিয়েছে। এক্সে তারা বলেছে, চলমান অভিযানে ইরানের ৪৩টি জাহাজ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলা করার ক্ষেত্রে এমন সব স্থান অগ্রাধিকার পেয়েছে যেগুলো ‘তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে’ বলে মনে করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো ইরানের শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে ফেলা।
বিবিসি ভেরিফাই স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি ও ভিডিও যাচাই করে দেখেছে, ইরানের স্কুল ও হাসপাতালসহ বেসামরিক এলাকাও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আক্রান্ত হয়েছে।