ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা আজ। সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে গণনা। দুই দফার ভোটের পর ইভিএমে বন্দি রায় খুলে যাবে সকালেই। আর তাই ‘প্রত্যাবর্তন না পরিবর্তন’—কোন পথে যাবে রাজ্য, তার ইঙ্গিত মিলতে পারে দুপুরের মধ্যেই। এমন অবস্থায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ৭৭টি কেন্দ্রে শুরু হচ্ছে গণনা।
ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা রাজ্যের সর্বত্র। জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
মূলত রাজ্যটির ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯৩ আসনের ফলাফল ঘোষিত হবে আজ। এর জন্য ৭৭ টি গণনা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শুরু হবে ভোট গণনা। গণনার শুরুতেই পোস্টাল ব্যালট গোনা হবে, তারপরে শুরু হবে ইভিএমের ভোট গণনা। অন্যদিকে ফলতা আসনে নতুন করে ভোটগ্রহণের তারিখ ২১ মে নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন।
রাজ্যের মোট ৭৭টি গণনাকেন্দ্রের ৪৫৮টি হলে সোমবার ভোটগণনা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাউন্ডের গণনা হবে চুঁচুড়ায়। সেখানে ২৭ রাউন্ড ইভিএম গণনা হবে। সবচেয়ে কম রাউন্ড গণনা রয়েছে মেটিয়াবুরুজ, সপ্তগ্রাম এবং বীজপুরে। এই তিন আসনেই ১০ রাউন্ড করে গণনা হবে। সোমবারের গণনাপর্বের জন্য মোট ২৯৩ জন গণনা পর্যবেক্ষক থাকছেন। এ ছাড়া ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক এবং ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষকও থাকছেন।
কোন দল জিতছে, কারা বসতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে— তা সবই স্পষ্ট হবে ভোট গণনার পর। তবে রাজ্যবাসী কার হাতে পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার তুলে দিলেন তার একটা প্রাথমিক ধারণা সোমবার দুপুর ১টার মধ্যেই মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও অতীতের ইতিহাস বলছে কিছু কিছু কেন্দ্রের গণনা শেষ হতে রাতও গড়িয়ে যেতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে এবারে মোট দুইটি দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। প্রথম দফায় নির্বাচন হয়েছে গত ২৩ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হয় গত ২৯ এপ্রিল। ভোটারদের সেই রায় এখন ইভিএম বন্দি হয়ে রয়েছে স্ট্রং রুমে। আপাতত সেখানেই কড়া পাহারার মধ্যে রয়েছে এই ইভিএমগুলো।
প্রত্যেকটি গণনা কেন্দ্রে থাকছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গণনা কেন্দ্রের বাইরে ১০০ মিটার এলাকায় কোনও ধরনের যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। গণনা কক্ষের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বেশ কয়েক দফায় তল্লাশির পরই গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে। গণনা চলাকালীন সময়ে গণনা কেন্দ্রের ভেতরে সিসিটিভিতে নজরদারিও চলবে।
প্রথম দফায় যে ভোটগ্রহণ হয়েছিল, তার বেশির ভাগ জেলা বিজেপির ‘শক্ত ঘাঁটি’ বলে পরিচিত। আবার দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছিল তৃণমূলের ‘দুর্গ’ বলে পরিচিত দক্ষিণবঙ্গে। কে কার দুর্গে ফাটল ধরাবে বা আদৌ ধরাতে পারল কি না, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। ফলাফল নিয়ে অবশ্য দুই শিবিরই ‘আত্মবিশ্বাসী’।
দুই শিবিরের পক্ষ থেকেই দাবি এবং পাল্টা দাবি রয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হতেই বিভিন্ন সংস্থা যে বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশ করেছিল, তার বেশিরভাগেই ইঙ্গিত মিলেছিল রাজ্যে ‘পরিবর্তন’ হতে চলেছে। ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। পাল্টা তৃণমূল দাবি করেছে, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের ভোটেও বুথফেরত সমীক্ষা মেলেনি। এবারও মিলবে না। সরকারে তারাই আসছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই আজ আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরি বিধানসভার নির্বাচনের ভোটগণনাও হবে। আসামে ১২৬টি আসনে, কেরালায় ১৪০ আসনে, তামিলনাড়ুতে ২৩৪ আসনে এবং পুদুচেরিতে ৩০ আসনের ফলাফল জানা যাবে আগামীকাল মঙ্গলবার (৫ মে)।