আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ঘিরে ফিরছে পুরনো অনেক স্মৃতি। ম্যারাডোনা, ‘হ্যান্ড অব গড’ কিংবা ২০০২ বিশ্বকাপের গল্পের পাশাপাশি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে লিওনেল স্কালোনি ও ডেভিড বেকহামের এক উত্তপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা। খেলোয়াড়ি জীবনে লা লিগার শিরোপা নির্ধারণী এক ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে প্রায় হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন দুজন।
ঘটনাটি ঘটে রিয়াল মাদ্রিদ ও দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার মধ্যকার লা লিগার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রাউলের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। সেই গোলই কার্যত শিরোপা নিশ্চিত করে দেয় স্বাগতিকদের, আর দেপোর্তিভোকে ঠেলে দেয় পরাজয়ের দিকে।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মাঝমাঠে পেছন থেকে ট্যাকল করে স্কালোনিকে ফেলে দেন ডেভিড বেকহাম। মাটিতে জড়িয়ে পড়েন দুজনই। সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান স্কালোনি। হারের হতাশা আর ট্যাকলের ক্ষোভ মিলিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বেকহামের মুখোমুখি হন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। বেকহামও পিছিয়ে যাননি। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি ও টানাহেঁচড়া।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রবার্তো কার্লোসসহ দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড় এগিয়ে এসে দুজনকে আলাদা করেন। এতে বড় ধরনের হাতাহাতির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। পরে রেফারি দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বছর কয়েক পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ হওয়ার পর সেই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন স্কালোনি। তার মতে, বেকহামের সেই ট্যাকল ছিল ম্যাচজুড়ে জমে থাকা হতাশারই বহিঃপ্রকাশ। স্কালোনি বলেন, ‘আমরা তাদের মাঠে, তাদের বিপক্ষেই শিরোপার লড়াই করছিলাম। আর মাত্র তিন মিনিট বাকি থাকতে তারা ২-১ গোল করে বসল।’
তিনি আরও জানান, ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও সেই হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। বেকহাম যখন বার্নাব্যুর দর্শকদের সঙ্গে শিরোপা উদযাপন করছিলেন, তখনও পরাজয়ের কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। তার ভাষায়, সেটি ছিল তার লড়াকু মানসিকতারই প্রকাশ। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বরাবরই ইতিহাসে ভরপুর। সেই তালিকায় এই ঘটনাও যোগ করেছে আলাদা এক মাত্রা।
মজার বিষয় হলো, এই ঘটনার মাত্র এক বছর আগে ২০০২ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহাম পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। সেই পরাজয় শেষ পর্যন্ত মার্সেলো বিয়েলসার দলের গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এবার দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। খেলোয়াড় হিসেবে নয়, ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ডকে হারানোর পরিকল্পনা করবেন স্কালোনি। আর সেই লড়াইয়ে হয়তো ২৩ বছর আগের তিক্ত স্মৃতিও তাকে বাড়তি প্রেরণা জোগাবে।