মার্কিন সিনেটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব ব্যর্থ হয়েছে। ইরানে ট্রাম্পের আরও সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা কমানোর লক্ষ্যে আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে ৪৭ জন ও বিপক্ষে ৫৩ জন সিনেটর ভোট দিয়েছেন। আইনপ্রণেতারা প্রায় পুরোপুরি দলীয় অবস্থান থেকে বিভক্ত হয়ে ভোট দেন।
এই প্রস্তাবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সংঘাত থেকে প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। তবে এ বিষেয়ে আগের প্রচেষ্টাগুলোও ব্যর্থ হয়েছে এবং এই উদ্যোগ সফল হলেও যুদ্ধের গতিপথ কতটা বদলাতো তা পরিষ্কার নয়।
ভোটের আগে ডেমোক্র্যাটরা যুক্তি দেন, ট্রাম্প কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে গেছেন এবং যুদ্ধের পক্ষে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে বেশির ভাগ রিপাবলিকান বলেছেন, তারা এই প্রস্তাব আটকে দিলেও যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হলে তারা নিজেদের অবস্থান বদলাতে পারেন।
তবে কংগ্রেস থেকে এ বিষয়ে শেষ কথা এখনো শোনা বাকি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসেরই আছে এবং ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গে এই আলোচনায় তারা আবারও ফিরবে।
হাউস বৃহস্পতিবার একই প্রশ্নে ভোট দেবে এবং এই সপ্তাহে ক্যাপিটল হিলে কিছু সিনেটর সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে ভবিষ্যতে তারা যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবকে সমর্থন করার দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন।
এদিকে ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৯৭ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় বেঁচে গেছেন দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনি। এখন তাকেই দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অবশ্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, যিনি ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হবেন তাকেই লক্ষ্যবস্তু করা হবে।